kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাত্র-পাত্রীর বাবা, বরসহ চারজনের দণ্ড

নালিতাবাড়ীতে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল কন্যাশিশু

শেরপুর প্রতিনিধি    

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৪৯



নালিতাবাড়ীতে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল কন্যাশিশু

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কন্যাশিশু। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরফদার সোহেল রহমান গোপন সংবাদে পুলিশ নিয়ে কনের বাড়িতে হানা দিয়ে বাল্যবিয়েটি ভেঙে দেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলার পৌর শহরের কালিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় পাত্র-পাত্রীর বাবা, সহকারী কাজী, বর এবং জাল জন্মনিবন্ধন প্রস্তুতকারককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে সাজাপ্রাপ্তরা ছাড়া পান।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ রানীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রীর (১২) বিয়ের আয়োজন করা  হয় বাঘবেড় গ্রামের মনিরুল ইসলামের (২৪) সঙ্গে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে ওই ছাত্রীর পৌর শহরের কালিনগর এলাকার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি চলার সময় ইউএনও তরফদার সোহেল রহমান সেখানে অভিযান চালান। এ সময় বর, তার বাবা, সহকারী কাজী, মেয়ের বাবা এবং জাল জন্ম নিবন্ধন প্রস্তুতকারককে আটক করা হয়। এরপর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুই পক্ষ এবং প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে মেয়েটির মতামত জানতে চাওয়া হয়। এ সময় মেয়েটি  আদালতকে জানায়, বিয়েতে তার মত ছিল না, জোর করে তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।

পরে শুনানি শেষে ছেলে ও মেয়ের বাবাকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা, সহকারী কাজী আব্দুল ওয়াদুদ ও ভুয়া জন্মনিবন্ধন প্রস্তুতকারক বাঘবেড় গ্রামের মাহমুদ হাসান এবং তাকে সহযোগিতা করার দায়ে বর মনিরুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়। রাতে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে সাজাপ্রাপ্তরা থানা পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে আসেন। নালিতাবাড়ীর ইউএনও তরফদার সোহেল রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 


মন্তব্য