kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে মা-মেয়ে এখন ঠিকানাবিহীন

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি    

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৫১



অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে মা-মেয়ে এখন ঠিকানাবিহীন

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে দুই বছরের শিশুসহ মা সুমি সর্বস্ব খুঁইয়ে এখন ঠিকানাবিহীন। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চা বিক্রেতা শাহাব উদ্দিনের আশ্রয়ে থেকে ঠিকানা খুঁজছেন তিনি।

আজ শুক্রবার বিকেলে আশ্রয়দাতা শাহাব উদ্দিন তাঁকে  থানায় নিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান।

শাহাব উদ্দিন জানান, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা চেৌরাস্থা বাসস্ট্যান্ডে প্রেসক্লাবের কাছে চা বিক্রি করেন সুমি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে দোকান বন্ধ করার সময় দেখতে পান কিছু দূরে সড়কের ওপর এক নারী অর্ধচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ অবস্থায় দুই বছরের শিশু কন্যাকে আগলে ধরে রেখেছিলেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সিলেট থেকে ময়মনসিংহগামী নৈশ কোচের যাত্রী ছিলেন ওই নারী। বাসের কন্ডাকটার তাঁকে ফেলে রেখে যায়। শাহাব উদ্দিন জানান, এ অবস্থায় তিনি ওই নারীকে উদ্ধার করে নিজ বাড়ি ঘোষপালায় নিয়ে যান। রাতভর সেবা দিয়ে আজ দুপুরে তাঁর সম্পূর্ণ জ্ঞান ফিরে আসে। পরে এ সময় পুরোপুরি কোনো ঠিকানা দিতে পারেননি সুমি। এ অবস্থায় মানবাধিকারকর্মী এনামুল হক বাবুলের সহযোগিতায় আজ শুক্রবার নান্দাইল থানায় আসেন তিনি।

সুমি জানান, তাঁর বাড়ি কুমিল্লার বিশ্বরোড এলাকায়। তাঁর বাবার নাম গয়েস মিয়া। তাঁর হৃদয় নামে এক ভাই রয়েছে। দুই বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় সিলেটের কদমতলী এলাকার সিএনজিচালক বাবুল মিয়ার সঙ্গে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বাবার বাড়ি কুমিল্লায় যাওয়ার জন্য স্বামী বাবুল তাঁকে একটি বাসে উঠিয়ে দেন। কিছু দূর আসতেই তাঁর ভীষণ ঘুম পায়। এরপর আর কিছু বলতে পারেননি তিনি। সুমি জানান, জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর তিনি দেখতে পান তাঁর কাছে থাকা চার হাজার টাকা, হাতের ও কানের সোনার গহনা খোয়া গেছে। তিনি এখন পরিবারের কাছে যেতে ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন।

নান্দাইল থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, শিশুসহ মাকে তাঁদের ঠিকানায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। ঠিকানা না পাওয়া পর্যন্ত চা বিক্রেতা শাহাব উদ্দিনের আশ্রয়ে থাকবেন সুমি।

 


মন্তব্য