kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রামগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি

প্রশাসনের ভুলে হতদরিদ্রদের খেসারত

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর    

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৫৯



প্রশাসনের ভুলে হতদরিদ্রদের খেসারত

জনসংখ্যায় গড়মিল থাকায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে পাঁচ হাজার ৭৭১ জন হতদরিদ্রকে খেসারত দিতে হচ্ছে। এতে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজিতে চাল পাওয়া থেকে তাদের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ এসব অভাবি মানুষ।

এদিকে, রামগঞ্জে হতদরিদ্র উপকারভোগীর কার্ড সংখ্যার পুনঃনির্ধারণ করতে সম্প্রতি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নয়ন জ্যোতি চাকমা চিঠি পাঠিয়েছেন। খাদ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ, বন্টন এবং বিপনন বিভাগের পরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) সংশ্লিষ্টদের এ চিঠি পাঠানো হয়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, রামগঞ্জ উপজেলায় ৫৬ হাজার ৬৯৮ জন জনসংখ্যার ভিত্তিতে এক হাজার ৪২৯ জন হতদরিদ্রকে কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু রামগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী (আদমশুমারি ২০১১ অনুসারে) জনসংখ্যা দুই লাখ ৮৫ হাজার ৬৮৬। এ অনুপাতে মোট সাত হাজার ২০০ কার্ড বরাদ্দ হওয়ার কথা ছিল। অথচ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৪২৯টি। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে পাঁচ হাজার ৭৭১ জন।

উপজেলার হাজীপুর গ্রামের রিকশাচালক আবুল কালাম জানান, কম দামে চাল কেনার কার্ডের জন্য তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারের কাছে কয়েকবার গেছেন। তারা জানান, বরাদ্দ কম আসায় কার্ড নেই। আর আসার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত।
রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বশির আহম্মদ মানিক বলেন, "প্রশাসনের ভুলের কারণে হতদরিদ্র মানুষকে খেসারত দিতে হবে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করার জন্য আমি দাবি জানাচ্ছি। এতে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষ যেন সুফল পান। "

রামগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, "রামগঞ্জে জনসংখ্যা দুই লাখ ৮৫ হাজার ৬৮৬ জন। ঢাকা থেকে সরবরাহ করা তথ্য অনুয়ায়ী  সেখানে গড়মিল হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে জনসংখ্যার তথ্য সঠিক রয়েছে। "
লক্ষ্মীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নয়ন জ্যোতি চাকমা বলেন, "জনসংখ্যা অনুপাতে পুনরায় কার্ড বরাদ্দ দেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পুনরায় বরাদ্দ পেলে এ সংকট লাঘব হবে। "

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, "বিষয়টি আমি শুনেছি। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। "

প্রসঙ্গত, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় লক্ষ্মীপুরে রয়েছেন ৪২ হাজার ৯৮ জন। জেলার ৫৮টি ইউনিয়নে ৯৫ জন ডিলারের মাধ্যমে হতদরিদ্র কার্ডধারীদের বছরের পাঁচ মাস যথাক্রমে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, মার্চ এবং এপ্রিলে ৩০ কেজি করে ১০ টাকা নির্ধারিত মূল্যে চাল পাবে। শুক্র, শনি এবং মঙ্গলবার এ চাল বিক্রি করা হবে। হতদরিদ্র ছাড়াও প্রতিবন্ধী, বিধবা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের শিকার নারীদের এ সুবিধা পাওয়ার কথা।

 


মন্তব্য