kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি জবরদখল!

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:০৬



আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি জবরদখল!

কুমিল্লার তিতাসে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও এক মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি দখল করেছে সন্ত্রাসী রিপন বাহিনী। আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশ প্রশাসনকে অমান্য করে বৃহস্পতিবার রাতে মুক্তিযোদ্ধা জায়গায় টিনের ভেড়া দিয়ে জোরপূর্বক দখল করে নেয়।

বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালেও তাদের কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি বলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অভিযোগ। জায়গাটি দখল করে উল্টো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটিকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। এ জন্য স্বভাবতই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি।

পুলিশ ও মামলার বিবরণে জানা যায়, তিতাস উপজেলার বন্দরামপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সোলেয়মান এবং তার ছেলে এম.এম. কামাল শাহ একই গ্রামের মোস্তফা গংদের নিকট থেকে একাধিক দলিলের মাধ্যমে ১১শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ক্রয় করা সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণ করেন। ঘরটি রাতের আঁধারে ভেঙ্গে ফেলে সন্ত্রাসীরা। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার আদালতে মামলা করলে আদালত সেই সম্পত্তির উপর স্থগিতাদেশ এবং তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হেফাজতে থাকারও নির্দেশ দেন। কিন্তু থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হেফাজতে থাকার পরও একই গ্রামের রিপন ও উজ্জলের নেতৃত্বে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী জায়গাটি দখল করে নেয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ শহিদুল হক ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সোলেয়মানের ছোট ভাই মোঃ হেলাল শাহ বলেন, ১৯৯১সালে আমার বাবা তিনটি দলিলের মাধ্যমে ১১শতাংশ জায়গা মোস্তফা গংদের নিকট ক্রয় করে আমরা ভোগ করে আসছি। আমাদের জায়গার পাশ দিয়ে পাকা রাস্তা যাওয়ায় জায়গাটির দাম বেড়ে যায়। পরে মোস্তফা ভুয়া পর্চা দেখিয়ে রিপনের নিকট অন্য পাশে আড়াই শতাংশ জায়গা বিক্রি করে। রিপন অন্য পার্শ্বে জায়গা ক্রয় করা সম্পতিতে না গিয়ে আমার জায়গায় দখলের চেষ্ঠা করলে আমি আদালতে শরণাপন্ন হই। পরে আদালত আমাদের জায়গাটি স্থিতিশিল রাখার নির্দেশ দেন এবং মুক্তিযোদ্ধা জায়গাটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হেফাজতে থাকার নির্দেশ দেন। থানা হেফাজতে থাকার পর সন্ত্রাসী রিপন বাহিনী কিভাবে জায়গাটি টিনের ভোড়া দিয়ে দখল করার পর পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা সন্ত্রাসী রিপন বাহিনীর হুমকিতে নিরাপত্তহীনতায় আছি।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত রিপন বলেন, আমি মোস্তফার নিকট থেকে আড়াই শতাংশ জায়গা ক্রয় করি। আমার জায়গায় আমি দখল করছি। তবে জায়গাটি কার হেফাজতে আছে তা দেখার সময় এখন নেই। যদি আইন ভঙ্গ করে থাকি তাহলে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, আদালতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মর্মে উভয় পক্ষেকে নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে। রিপন জোরপূর্বক মুক্তিযোদ্ধা জায়গায় জোরপূর্বক টিনের বেড়া দিয়েছে। আমাকে জানানোর পর সাথে সাথে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমার এক অফিসারকে দ্বায়িত্ব দিয়েছি।


মন্তব্য