kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌ-রুটে যাত্রীদের চাপ; অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৫১



কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌ-রুটে যাত্রীদের চাপ; অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

ফাইল ছবি

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা ঢাকা থেকে আসতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকেই যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়।

তবে শুক্রবার সকাল থেকে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে দ্বিগুন। অপরদিকে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীরা পদ্মা পাড়ি দিয়ে কাওড়াকান্দি এসেই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

নিষেধাজ্ঞা থাকলেও একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে লোকাল ও গেইটলক বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা হচ্ছে। যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে উঠে গন্তব্যে যাচ্ছেন।   এছাড়াও নাব্যতাতা সংকটের কারণে যথাসময়ে ফেরি পার না হতে পারায় অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক কাওড়াকান্দি ঘাটে আটকে পড়েছে।

এদিকে শিমুলিয়ায় রাস্তার পাশে দুটি কাউন্টার থাকায় ৩নং টার্মিনালের কাছে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বরিশালগামী বিএমএফ পরিবহন ও খুলনাগামী সেতু ডিলাক্স পরিবহনের কাউন্টার থাকায় তারা সারা বছরই রাস্তার উপর গাড়ি রেখে যাত্রী বোঝাই করে। এতে করে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়াও মাইক্রোবাসের স্ট্যান্ড থাকার পরও ৩/৪টি রুটের মাইক্রোবাসের যাত্রী উঠানামা করানো হচ্ছে রাস্তার পাশে গাড়ি রেখে। তাই ঈদ উপলক্ষে আসা লঞ্চ স্পিডবোট ও কাটা সার্ভিসের হাজার হাজার যাত্রীরা সেখানে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছে।

নড়াইলগামী বাস যাত্রী মাকসুদা আক্তার (২৫), আবুল হোসেন (৩৫)  সুমন মিয়াসহ (২৪)  একাধিক যাত্রী জানান, আগে যেখানে ভাড়া ছিল মাত্র দেড়শত টাকা। সেখানে  ঈদ উপলক্ষে এখন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩ শত থেকে সাড়ে ৩ শত টাকা।

আর বরিশালগামী বাস যাত্রী আবদুর রহিম মিয়া (২৬) জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা পাড়ি দেয়া পর্যন্ত ভালই ছিলাম। কোথাও তেমন বেশি ভাড়া দিতে হয়নি। কিন্ত এখানে (কাওড়াকান্দি থেকে) যাত্রীদের ১শত টাকা বেশি গুনতে হয়। এখানে আগে ছিল ২শত টাকা এখন নেওয়া হচ্ছে  ৩শত টাকা।

মাইক্রেবাসের যাত্রী সুমনা আক্তার, রুবি আক্তার, শাখাওয়াত হোসেন রবিন জানান, মাইক্রোবাসের ভাড়া নিচ্ছে আগের তুলনায় দেড়শত টাকা বেশি। এখানে আগে নিতো ২শত টাকা এখন নিচ্ছে মাইক্রো ভাড়া সাড়ে ৩শত টাকা। এভাবেই দক্ষিণাঞ্চলেলর প্রতিটি রুটের যাত্রীদের ভাড়া অধিক টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের সুপার ভাইজার মো. সামসুল জানান, এখন প্রতিটি গাড়ী বরিশাল যাত্রী নামিয়ে খালি আসতে হয়। তাই জ্বালানির দাম উঠেনা। তাই কিছুটা ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

এছাড়া নড়াইল পরিবহন কাউন্টারের সুপার ভাইজার বেশি ভাড়া নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মাত্র ৫০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে ।

এদিকে পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে জেলা পুলিশের ইনস্পেকটর উত্তম কুমার শর্মা জানান, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ঘাট এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তাই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্র্যামমান আদালত পরিচালিত হবে।   তবে কোন পরিবহনই অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবে না বলে তিনি দাবী করেন।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন মোল্লা ও জেলা পুলিশের ইনস্পেকটর উত্তম কুমার শর্মা  জানান, শুক্রবার সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘাট  এলাকায় ঈদের যাত্রীদের নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে।

অপরদিকে কাওড়াকান্দি ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রুহুল আমিন জানান, কাওড়াকান্দি পাড়ের ৩টি ঘাট এখন সচল রয়েছে। গরু বোঝাই ট্রাক ও যাত্রী পারপারে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন কত্তৃপক্ষ। নৌরুটে সচল থাকা ১৩টি ফেরি চালু রয়েছে। তবে নাব্যতা সংকটের কারণে সবগুলো ফেরিই যাত্রীসহ যানবাহন বোঝাই কম করছে। লৌহজং টার্নিয়ে নাব্যতাতা সংকটের কবলে ফেরিগুলো মাঝে মধ্যে এখনো ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিআইডব্লিউটিএ’র প্রায় একমাস ধরে ৬টি ড্রেজারের মাধ্যমে নাব্যতাতা সংকট নিরসনে পদ্মার পলি অপসারণের কাজ চলছে। তবে চলতি বছর প্রকট আকারে রুপ নিয়েছে নাব্যতাতা সংকট। একপাশ ড্রেজিং শেষ করা হয়েছে। ফেরিগুলো এখন ওয়ান-ওয়ে চলাচল করছে। বর্তমানে রো-রো ফেরিগুলো চলছে তবে রাতের বেলা ফেরি চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


মন্তব্য