kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৭ মাসের অন্তঃস্বত্তা ছাত্রীর জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার!

ভালোবেসে বিয়ে করে ফেঁসেছেন প্রতিবন্ধী তরুণী, স্বামী লাপাত্তা

নড়াইল প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:৫৬



ভালোবেসে বিয়ে করে ফেঁসেছেন প্রতিবন্ধী তরুণী, স্বামী লাপাত্তা

নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণী। ভালোবেসে বাড়ির অমতে একবছর আগে বিয়ে করেছিলেন সমবয়সী রিয়াজকে, একসাথে কয়েক মাস থাকার পরে সে এখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এর মধ্যে ঢাকার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর পড়া স্বামী রিয়াজ তাকে ছেড়ে চলে গেছে। ৫ মাস যাবৎ কোনো যোগযোগ নাই। শ্বশুর-শাশুড়িও এ বিয়ে মেনে নিচ্ছেন না। তরুণী তার বিয়ের সামাজিক স্বীকৃতির জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় মাতব্বর, মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের দারস্থ হয়েও কোনো ফল পাননি। এখন নিজের বাবার বাড়ির লোকরাও তাকে কটু কথা বলছেন, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার শেষ প্রান্তে এই প্রতিবন্ধী মেয়েটি।

জানা গেছে, গত ২০১৫ সালের ১৯ অক্টোবর নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের সরকেলডাঙ্গা গ্রামের সালাম মোল্লার পুত্র রিয়াজুল ইসলাম ও সদরের মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামের ইমদাদুল ইসলামের কন্যা একে অপরকে ভালোবেসে বাড়ি থেকে ঢাকাতে গিয়ে রেজিস্ট্রি বিয়ে করেন। বিয়ের পর ৩ মাস তারা ঢাকায় বসবাস করলেও পরে রিয়াজ স্ত্রীকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এর পর থেকে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। বর্তমানে তরুণী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।  

তরুণী জানান, রিয়াজের খালাবাড়ি তার বাড়ির পাশে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই রিয়াজের সাথে তার পরিচয়। একটু বড় হলেই রিয়াজ তার সাথে প্রেম করার জন্য প্রস্তাব দেয়। কিন্তু নিজের শারীরিক অক্ষমতার কথা ভেবে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি। কলেজে পড়াকালীন আবারও খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাব দিলে গত ২ বৎসর আগে রিয়াজের প্রস্তাবে সাড়া দেন তিনি। ভাবেন রিয়াজ তাকে ছোটবেলা থেকেই চেনেন, তিনি নিশ্চয়ই তার প্রতিবন্ধিতা মেনে নিয়েই ভালোবেসেছেন। এরপর ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে মিরপুরের একটি কাজী অফিসে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর তরুণীর এক আত্মীয়র বাসায় তারা থাকতো। এর একপর্যায়ে বিয়ের ব্যাপারটি রিয়াজের পরিবারে জানাজানি হলে ঘটে বিপত্তি। সে তরুণীর সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। গত ৫ মাস যাবৎ সে কোনোই যোগাযোগ রাখছেন না। ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না তাকে।

এদিকে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর পরিবার থেকে রিয়াজের পরিবারের কাছে ছেলের বউকে ঘরে তোলার কথা বললে তারা তরুণীর পরিবারের লোকদের তাড়িয়ে দেয়। নিজের বৈবাহিক স্বীকৃতির জন্য শ্বশুর বাড়ি গেলে তরুণীকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হতভাগ্য তরুণী এই অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছেন। নিজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে কিন্তু এমন মানসিক অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়াই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। নিজের প্রতিবন্ধিতা নিয়ে তিনি সন্তানের মা হতে চলেছেন, অথচ প্রেমিক স্বামী তাকে ফেলে চলে গেছে; 'সারাজীবন কি এভাবেই কাটবে আমার, ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে আমাকে কেন বিপদে ফেলা হলো, আমার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারে না কেউ?' এসব প্রশ্ন করছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত শারীরিক প্রতিবন্ধী (নিবন্ধন নম্বর-১১৩৭) তরুণী।

তরুণী বলেন, ''কোনো উপায় না পেয়ে অনাগত সন্তান, স্বামী-সংসারের স্বীকৃতির দাবিতে গত ২০ আগস্ট ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। সেখান থেকেও কোনো রেজাল্ট পাইনি। কোনো মীমাংসা না হলে ঘর-সংসার ও সন্তানের পিতৃত্বের দাবিতে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। ''

ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদে দেওয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর কাজী নাজমুল বলেন, তরুণীর অভিযোগ পেয়ে রিয়াজের বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। রিয়াজকে পাওয়া গেলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করবেন বলে তিনি জানান।

রিয়াজের বাবা সালাম মোল্লা কথা প্রসঙ্গে তিনি উল্টো ছেলেকে না পাওয়ার জন্য প্রতিবন্ধী ওই মেয়ে ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি প্রদান করে বলেন, তারা আমার ছেলেকে গুম করে ফেলতে পারে, মেরেও ফেলতে পারে। আমি ওদের নামে মামলা করবো। '' প্রতিবন্ধী অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তার স্বামীকে মেরে ফেললে তো তার ক্ষতি, তাহলে সে প্রতিকার চাইবে কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা নিজেরা বিয়ে করেছে, এখন যদি নিজেরা সংসার করে তাতে তো আমার কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু আমাদের মত ছাড়াই বিয়ে করেছে তাই মেনে নেবার প্রশ্নই ওঠে না। ছেলের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই বলে তিনি জানান।

প্রতিবন্ধী সংগঠন ডিপিওডি নড়াইল জেলা শাখার বিগত কমিটির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী তরুণীর বিষয়টি জানার পর দুই পক্ষের মধ্যে ফয়সালার চেষ্টা করেছি। এখনও পর্যন্ত কোনো রেজাল্ট পাওয়া যায়নি।

এদিকে তরুণীর স্বামী রিয়াজের সাথে ফোনে (০১৭৩৮৭১২৮৭১ ও ০১৯২৯৫৯৫২১৩) যোগাযোগ করা হলে তার দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।


মন্তব্য