kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দিনমজুরের বুদ্ধিতে ধরা পড়ল ২ কিডনি পাচারকারী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১০:০৯



দিনমজুরের বুদ্ধিতে ধরা পড়ল ২ কিডনি পাচারকারী

বগুড়ায় কিডনি পাচারকারী চক্রের খপ্পর থেকে বুদ্ধি খাটিয়ে রক্ষা পেয়েছে এক দিনমজুর। আর তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।


বুধবার সন্ধ্যার ওই ঘটনায় আটকদের বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলার উথলিবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ৬-৭ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে ফুসলিয়ে ভারতে পাঠিয়ে কিডনি বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা আয় করেছে বলেও জানিয়েছে তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঈদের পর রিমান্ডে নিয়ে এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতার হওয়া কিডনি পাচারকারী চক্রের সদস্য দু’জন হচ্ছে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার নওয়ানা বুথি গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে আবদুল মান্নান (৪২) ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পাড়াইল গ্রামের আবদুস সামাদের ছেলে মাসুদ মিয়া মাসুদ (৩০)।
ডিবি পুলিশের এসআই মজিবর রহমান জানান, শিবগঞ্জের আলাদিপুর নয়পাড়া গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে তারাজুল ইসলাম (৩৬) সম্প্রতি কিডনি পাচারকারী মান্নান ও মাসুদের খপ্পরে পড়েন। তারা তাকে বোঝাতে সক্ষম হয় মানুষের দু’টি কিডনি থাকে। এর একটি বিক্রি করলে শারীরিক কোনও সমস্যা হয় না। আর কিডনি বিক্রি করলে মোটা অংকের টাকা মিলবে; যা দিয়ে সংসারের অভাব দূর হবে। একটি কিডনির বিনিময়ে লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখালে সংসারের অভাবের কথা ভেবে তারাজুল রাজি হন। তাকে অগ্রিম হিসেবে ২ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছিল। কয়েকদিন আগে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য গোবিন্দগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে আনা হয়। কিন্তু, তাদের কথায় সন্দেহ হলে তিনি প্রস্রাব করার কথা বলে পালিয়ে যান। এরপর গত বুধবার বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে এসে ঘটনাটি প্রকাশ করেন। সেদিন সন্ধ্যার দিকে ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শিবগঞ্জের উথলিবাজার এলাকা থেকে কিডনি পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য মান্নান ও মাসুদকে গ্রেফতার করে। তাদের ডিবি অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কিডনি পাচারের কথা স্বীকার করেন। এরপর ঢাকা ও কলকাতায় কীভাবে কিডনি বিক্রি এবং প্রতিস্থাপন করা হয় সে ব্যাপারেও বিস্তারিত জানিয়েছে তারা।
মান্নান ও মাসুদ পুলিশ কর্মকর্তাদের জানান, গত ৩-৪ মাসে তারা গোবিন্দগঞ্জের সিরাজুল ইসলাম, জেলহক, শামসুল হক ও জয়পুরহাটের কালাইয়ের আদম আলীসহ ৬-৭ জনকে ফুসলিয়ে কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের শরীর থেকে একটি করে কিডনি নিয়ে রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কিডনি ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। প্রতিটি কিডনির বিনিময়ে দাতারা এক লাখ টাকা করে পেয়েছেন। অবশিষ্ট টাকা দালাল ও পাচারকারীরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে।
তারা আরও জানান, কলকাতায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অপারেশনের মাধ্যমে কিডনি নেওয়ার পর রোগীর শরীরে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। কিডনি নেওয়ার পরপরই দাতাকে ছেড়ে দেওয়া হয় না। তাদের অপারেশনের আগে ও পরে অন্তত তিন মাস কলকাতায় রাখা হয়। তাদের সমস্ত খরচ ও হাসপাতাল চার্জ দালাল চক্র পরিশোধ করে থাকে। এছাড়া দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যয় বেশি ও গ্রেফতারের আশংকা থাকায় দাতাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের ভিসা, পাসপোর্টসহ অন্যান্য খরচও দালালরা বহন করে থাকে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মজিবর রহমান জানান, কিডনি পাচারকারীদের গ্রেফতারের আগে তারাজুল ইসলাম শিবগঞ্জ থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গ্রেফতার মান্নান ও মাসুদকে বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য