kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুলিশ ক্যাম্প প্রত্যাহারের প্রতিবাদে চার গ্রামের বাসিন্দাদের বিক্ষোভ

মেহেরপুর প্রতিনিধি    

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:০৯



পুলিশ ক্যাম্প প্রত্যাহারের প্রতিবাদে চার গ্রামের বাসিন্দাদের বিক্ষোভ

মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে খ্যাত বলিয়ারপুরের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প প্রত্যাহারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় চার গ্রামের বাসিন্দারা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার বলিয়ারপুর, সোনাপুর, শিশিরপাড়া এবং গওহরপুরের গ্রামের দুই শতাধিক বাসিন্দা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।

গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভ সহকারে পুলিশ সুপার আনিছুর রহমানের কাছে ক্যাম্পটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। পুলিশ সুপার বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দাবি জানানোর কথা জানান। পরে বিক্ষুব্ধরা মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান করে তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহের হাতে তুলে দেন।

কর্মসূচিতে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান, বলিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি লিয়াকত সরকার, সদস্য আনারুল ইসলাম, শিক্ষক গোলাম কিবরিয়াসহ ওই চার  গ্রামের বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।

স্মারকলিপিতে জানা গেছে, মেহেরপুরের সদর উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও দামড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম হচ্ছে বলিয়ারপুর। সন্ত্রাসীরা তাদের কর্মকাণ্ড  সম্পন্ন করে প্রত্যান্ত ওই গ্রামে সহজে আশ্রয় নিতে পারত। ফলে বলিয়ারপুর গ্রামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ‌ওই কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ১৯৯৯ সালের ১৫ এপ্রিল স্কুল শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা, সাবেক ইউপি সদস্য ‌এবং একজন পল্লী  চিকিৎসকসহ একই দিনে চারজনকে গুলি ও গলা কেটে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পরে গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বলিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

পুলিশ ক্যাম্পটি স্থাপনের পর ওই এলাকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে। কিছুদিন আগে ক্যাম্পটি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে সরকারকে ৬৬ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে  দেয় গ্রামবাসী। সম্প্রতি ওই এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ ক্যাম্পটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে গ্রামবাসীর মধ্যে আবারো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইউপি সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পটি প্রত্যাহার করে এলাকার মানুষের শান্তি নষ্ট হয়ে যাবে। এলাকায় আবারো সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যাবে। ফলে সন্ত্রাসী তৎপরতা ঠেকাতে ক্যাম্পটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ বলেন, যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


মন্তব্য