kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গাজীপুরে স্যুটকেসে লাশ গুম মামলায় গ্রেপ্তার ৪

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৪৩



গাজীপুরে স্যুটকেসে লাশ গুম মামলায় গ্রেপ্তার ৪

গাজীপুরে এক নারীকে হত্যার পর লাশ স্যুটকেসে ভরে গুম করার অভিযোগে ৪ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। বুধবার রাতে ও আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তৈয়বুর রহমান, রবিউল ইসলাম, মো. শাহীন ও উজ্জল। গাজীপুরের শ্রীপুর থানা পুলিশের এসআই মো. ফরিদ জানান, প্রথমে রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৩ আগস্ট রাত ১০টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর খালিয়াটিপাড়ার আকাশি বনের পাশে স্যুটকেসের ভেতর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম রোকসানা আক্তার নিপা (২৯)। তিনি নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাহিরচাপড়া রাজুরবাজার এলাকার মৃত আব্দুর রউফের কন্যা। ঢাকা উত্তরার দক্ষিণখান প্রেমবাগান এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। এ ঘটনায় নিহতের একমাত্র ভাই মো. শরিফুল ইসলাম বাপ্পি বাদী হয়ে ২৪ আগস্ট শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরস্পর যোগসাজশে হত্যা করে লাশ গুম করার অপরাধে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের এতে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাহিরচাপড়া রাজুরবাজার এলাকার মো. মাসুদের সাথে রোকসানা আক্তার নিপার বিয়ে হয়। দ্রিমিত নামে তাদের ১২ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আনুমানিক একবছর আগে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে রোকসানা তার ভাই মো. শরিফুল ইসলাম বাপ্পির বাসায় থেকে একটি প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করতেন।

২১ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে রোকসানা তার প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হন। ওই রাতে বাসায় না ফেরায় তার মোবাইলফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন রিসিভ হয়নি। পরদিন ২২ আগস্ট তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি নিখোঁজ হন।

নিখোঁজের পর ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর খালিয়াটিপাড়ার আকাশি বনের পাশে স্যুটকেসের ভেতর নিপার লাশ পাওয়া যায়। স্যুটকেসের ভেতর একটি ভ্যানিটি ব্যাগে গ্রামীণফোনের সিমসহ একটি ইন্টারনেট মডেম ও মো. রবিউল আউয়ালের ছবিযুক্ত একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড পাওয়া যায়।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানেই তার স্বজনরা লাশটি শনাক্ত করেন। গাজীপুর গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় দাস বলেন, মৃতদেহটি অর্ধগলিত ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে তবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

 


মন্তব্য