kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাগেরহাটে নারী চিকিৎসকের আত্মহত্যা

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৫১



বাগেরহাটে নারী চিকিৎসকের আত্মহত্যা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গলায় শাড়ি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এমবিবিএস ডিগ্রিধারী এক নারী চিকিৎসক। আজ বুধবার সকালে পুলিশ মোরেলগঞ্জ পৌরসভার বাজার এলাকায় তার বাবার বাড়ির তিনতলার ছাদ থেকে ওই চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

আত্মহননকারী চিকিৎসক তপতী পোদ্দার (৩৫) বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার দাসের স্ত্রী। তিনি বাগেরহাট সদর হাসপাতালের ম্যাটারনাল নিউনেটাল হেলথ (এমএনএইচ) প্রকল্পে চিকিৎসক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এম এন এইচ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়।
 
এ বিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. অরুন কুমার মন্ডল জানান, ২০১২ সালের ১ জুলাই বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ম্যাটারনাল নিউনেটাল হেলথ (এমএনএইচ) প্রকল্প চালু হয়। ওই প্রকল্পে তপতী পোদ্দার চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওই প্রকল্প শেষ হয়। তপতী পোদ্দার ঢাকার শিকদার মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছে বলে সিভিল সার্জন জানান।
 
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার দাসের ব্যক্তিগত সহকারি শরীফ তুহিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ২০১৫ সালের ডিসম্বর মাসে সরকারের এম এন এইচ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে তপতী পোদ্দার মানষিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত ছিলেন। তখন তার অস্বাভাবিক আচরণের জন্য তার স্বামী তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জনু শামছুন্নাহারের কাছে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যান। গত সাত মাস ধরে ওই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। গত ১৮ আগষ্ট তিনি ঢাকা থেকে চিকিৎসা শেষে ফিরে তার বাবার বাড়িতে ছিলেন। আজ বুধবার সকাল ৭টায় মোরেলগঞ্জ পৌরসভার বাজারে তার বাবার বাড়ির তিনতলার ছাদের চিলেকোটায় গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তপতী।

তিনি আরও বলেন, ২০০০ সালে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার দাসের সঙ্গে তপতী পোদ্দারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তপতী পোদ্দার ঢাকার শিকদার মেডিক্যাল কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এমবি বিএস পাশ করেন।
 
এ ব্যাপারে মোরেলগঞ্জ থানার তদন্ত বিভাগের ওসি তারক বিশ্বাস জানান, চিকিৎসক তপতী পোদ্দার মোরেলগঞ্জ পৌরসভার সুনিল কুমার পোদ্দারের মেয়ে। তিনি তার বাবার বাড়ির তিনতলা ছাদের চিলেকোটায় উঠে একটি রড়ের সঙ্গে শাড়ি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে ওই চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করে।  

তিনি আরো জানান, তপতির পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের সম্মতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।


মন্তব্য