kalerkantho


ধূমপানের কথা বলে দেওয়ায় গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছ্যাকা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:২৮



ধূমপানের কথা বলে দেওয়ায় গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছ্যাকা

ঢাকার ধামরাইয়ে কাজের মেয়েকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধ করে দিয়েছে গৃহকর্তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ে। কাজের মেয়ের অপরাধ নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটি ধূমপান করে-এ কথাটি বলে দেয় মেয়েটির বাবা-মার কাছে। আজ মঙ্গলবার ধামরাই পৌরসভার গোপনগর মহল্লার আক্কাস আলীর বাসা থেকে ওই কাজের মেয়েকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটিকেও আটক করে থানায় আনা হয়।
 
পুলিশ ও নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর কাছ থেকে জানা গেছে, ধামরাই বাজারের গোপনগর মহল্লার আলহাজ্ব আলী আক্কাসের মালিকানাধীন ‘মাতৃছায়া’ নামের তিন তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গত মাসে ভাড়া নেয় গোলাম কাদের ও নাজমা বেগম নামের এক দম্পতি। গোলাম কাদের ঢাকায় একটি ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। নাজমা বেগম দি একমি ল্যাবরেটরিজ ওষুধ কারখানায় চাকরি করেন। তাদের ঘরে তিন বছরের এক ছেলে ও নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়ে রয়েছে। তাদের দুই সন্তান ও কাজের মেয়ে শাহনাজ(১৪) কে ভাড়া বাসায় রেখে তারা চলে যান কর্মস্থলে। এ সুযোগে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটি প্রতিদিন সিগারেট পান করে। সিগারেট পান করার কথা মেয়েটির বাবা-মার কাছে বলে দেয় শাহনাজ। ধূমপানের কথা বলে দেওয়ার অপরাধে গত রবিবার শাহনাজের দুই হাতে গরম খুন্তির ছ্যাকা দেয় তাদের মেয়ে। এ অবস্থায় ওই দম্পতি তালাবদ্ধ করে তাদের বাসায় রেখে প্রতিদিনের মতো আজ মঙ্গলবার কর্মস্থলে চলে যায়। আজও ওই দম্পতির মেয়ে শাহনাজকে মারধর করতে থাকলে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে সে। এতে আশেপাশের লোক ও পথচারীরা থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে শাহনাজকে উদ্ধার ও নির্যাতনকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

নির্যাতিত শাহনাজ জানায়, সাত মাস আগে তার ভাইয়ের মাধ্যমে গোলাম কাদেরের বাসায় কাজের মেয়ে হিসেবে কর্মরত আছে। শাহনাজ তার বাবাকে চিনেনা তবে বাবার নাম বলেছে মৃত জয়নাল আবেদীন। মায়ের নাম মমতাজ বেগম। বড় ভাইয়ের নাম আলতাফ হোসেন। সে শুধু গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর ইমান আলী মার্কেটের নাম বলতে পারে। সে আরো জানায়,  এর আগেও তাকে তিন দিন মেরেছে দম্পতির মেয়ে।

গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছ্যাকা ও ধূমপানের কথা থানায় বসে অকপটে স্বীকার করেছে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটি।

এ ব্যাপারে ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা জানান, কাজের মেয়েটির অভিভাবক অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য