kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুরস্কৃত হলেন রিশার হত্যাকারীকে ধরিয়ে দেওয়া সেই দুলাল

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৩৫



পুরস্কৃত হলেন রিশার হত্যাকারীকে ধরিয়ে দেওয়া সেই দুলাল

‘প্রতিদিন অন্তত একটি করে ভালো কাজ করার ইচ্ছা জাগছে আমার। ’- এ কথা বলেন স্কুলছাত্রী রিশার হত্যাকারী ওবায়দুলকে ধরিয়ে দেওয়া সেই মাংস ব্যবসায়ী নীলফামারীর ডোমার উপজেলার দুলাল হোসেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ডোমার থানা চত্বরে অনুষ্ঠিত ওপেন হাউস ডে এবং কমিউনিটি পুলিশিং সভায় ওই অবদানের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষে দুলাল হোসেনসহ তিনজনকে আর্থিক পুরস্কৃত করা হয়। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান। পুরস্কার পেয়ে ভালো কাজের স্বীকৃতিতে ওই অনুভুতি প্রকাশ করেন দুলাল।

ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার (১৫) হত্যাকারী ওবায়দুল হককে (২৮) ধরিয়ে দেওয়ার অনন্য অবদানের জন্য দুলাল হোসেনেকে পুরস্কৃত করার দাবি ওঠে সোস্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। অনেকেই প্রসংশা করেন দুলালের ওই ভালো কাজের। অবশেষে সামান্য হলেও ওই ভালো কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে জেলা পুলিশ। দুলাল হোসেনের সঙ্গে অপর পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- ইজিবাইকচালক ইসমাইল হোসেন (২৫) ও সোনারায় ইউপি সদস্য শাহজাহান আলী (৩৫)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ইজিবাইকচালক ইসমাইল রিশার হত্যাকারী ওবায়দুলকে ধরতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন দুলালকে এবং তারা দুজনে পথরোধ করে আটক করে ওবায়দুলকে। এরপর ইউপি সদস্য শাহজাহান আলী পুলিশের সরবরাহ করা ছবির সঙ্গে মিল করিয়ে নিশ্চিত করেন এই ওবায়দুলই রিশার হত্যাকারী।

পুলিশের এমন পুরস্কার পেয়ে দুলাল বলেন, ‘এখন প্রতিদিন অন্তত একটি করে ভালো কাজ করার ইচ্ছা জাগছে আমার।  
স্কুলছাত্রী রিশার খুনী ওবায়দুলকে ধরিয়ে দেওয়ার সময় ভাবতে পারিনি আমি প্রসংশিত হবো, মানুষের কাছে এতো সম্মান পাবো। সবার প্রসংশায় আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে আমার। ’

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ রাজিউর রহমান বলেন,‘রিশা হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুলকে ধরিয়ে দেওয়ার কাজে সহযোগিতার জন্য দুলালসহ ওই তিনজনকে আর্থিক পুরস্কৃত করেছে জেলা পুলিশ। ’ তবে পুরস্কারের টাকার পরিমাণ জানাননি তিনি।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ রাজিউর রহমানের সভপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন পৌর মেয়র মনছুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম, ডোমার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাব্বের হোসেন, সোনারায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, ডোমার বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট সকালে জেলার সোনারায় বাজার থেকে চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি ওবায়দুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন ওই বাজারের মাংস ব্যবসায়ী দুলার হোসেনসহ অপর দুই সহযোগী। তারা ওই বাজারে ওবায়দুলকে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশের সরবরাহ করা ছবির সঙ্গে মিল পেয়ে তাকে আটক করে। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নেয়।


মন্তব্য