kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হঠাৎই থমকে গেছে সুমাইয়ার জীবন

বরগুনা প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:২৪



হঠাৎই থমকে গেছে সুমাইয়ার জীবন

ক’দিন আগেও সহপাঠীদের সাথে খেলাধুলা আর আনন্দ হাসিতে মেতে থাকতো সে। লেখাপড়ায় ভাল ছিল।

বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। ইচ্ছা ছিল দরিদ্র বাবার দুঃখ ঘোচানোর। কিন্তু হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় থমকে গেছে তার সকল স্বপ্ন। বাড়ির পাশের একটি দ্বিতল ভবনের ছাদে বিদ্যুৎস্পৃস্ট হয়ে গুরুতর অসুস্থ সে। হাঁটুর নীচ থেকে একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে তার। পুড়ে গেছে ডান কাঁধের এক অংশের হাড়ও। এখনও শুকায়নি তার পোড়া ঘা।

বরগুনার আমতলী উপজেলার একে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির দরিদ্র শিক্ষার্থী সুমাইয়া (১২)। চলতি বছরের ১০ মে বাড়ির কাছাকাছি একটি দ্বিতল ভবনের ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃস্ট হয় সুমাইয়া। সুমাইয়ার মা হামিদা (৩৭) বেগম বলেন, ‘তরতাজা মাইয়াডার এমন ফ্যাল ফ্যাল কইরা চাইয়া থাহা (নির্বাক তাকিয়ে) আর দ্যাখতে পারি না। যেডু (টুকু) জমি আছেলে সব ব্যাচা শ্যাষ। এহনও চিকিৎসার কিছু অয় নায়। ঘোচে নায় পোড়া ঘাও। ’

বরগুনার আমতলী উপজেলার কচুপাত্রা গ্রামের দরিদ্র রাজমিস্ত্রি শামীম হাওলাদার (৪৫) সুমাইয়ার পিতা। বর্তমানে তিনি কাজ করেন ঢাকার একটি স্টিল মিলে। তার পক্ষে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘অতটুকু মাইয়ার কষ্ট দেইখখা আর সইতে পারি না। কই যামু কী, করমু কইতে পারি না। মাঝে মাঝে মনে হয় বিষ খাইয়া মইরা যাই। ’

দরিদ্র শিশু সুমাইয়ার চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে যে অর্থের প্রয়োজন তা নেই দরিদ্র পিতা শামীম হাওলাদারের। বিষয়টি অবগত হয়ে সুমাইয়ার চিকিৎসা ও পড়াশোনার জন্য স্থানীয় বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বরগুনা প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ হাসানুর রহমান ঝন্টু।  

বরগুনা প্রেসক্লাব সভাপতি জানান, সবাই মিলে সুমাইয়ার পাশে দাড়ালে সুমাইয়া সুস্থ হয়ে উঠবে এবং তার পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারবে। এ বিষয়ে তিনি বরগুনার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় সচ্ছল ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে একটি তহবিল গঠন করবেন বলেও জানান তিনি।


মন্তব্য