kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চাঁদা না দিয়ে সাগরে না যাওয়ার হুমকি!

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি    

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৩৩



চাঁদা না দিয়ে সাগরে না যাওয়ার হুমকি!

সাগরে মাছ ধরতে হলে আগাম চাঁদা দিতে হবে, নইলে জেলেদের মেরে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হবে- এমন হুমকি দিয়েছে সুন্দরবনকেন্দ্রিক বঙ্গোপসাগরের জলদস্যু বাহিনী। সপ্তাহজুড়ে জেলে ও ট্রলার মালিকদের মোবাইল ফোনে এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি। র‍্যাব বলছে, জলদস্যু নয় কোনো  দুষ্ট চক্র মোবাইলে চাদাঁবাজি করার চেষ্টা করছে।

ইতিপূর্বে র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ও আত্মসমর্পণ করায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক বঙ্গোপসাগরে অনেক জলদস্যু নির্মূল হলেও প্রতিনিয়ত নতুন করে দস্যু বাহিনী তৈরী হচ্ছে। এ কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের মাঝেও নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। জেলে ও ট্রলার মালিকদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে জলদস্যু বাহিনী ফোনে সাগরে যাওয়ার আগে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদা পরিশোধের জন্য হুমকি দিচ্ছে। নইলে মেরে ফেলার হুমকি দে‌ওয়া হচ্ছে।

পাথরঘাটার ট্রলার মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যু বাহিনী তাদের ০১৫১৭৩৮৮২৪২ নম্বর থেকে ফোন করে ০১৭১৮৮৪৭৮৫৯ নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে আগাম চাঁদা দাবি করে। যদি তাদের দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করি তাহলে সাগরে ট্রলার পাওয়া মাত্র জেলেদের মেরে ফেলে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেবে। "
    
ট্রলার মালিক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর জহিরুল হক চিনু বলেন, "আমাকে ফোন দিয়ে জলদস্যু সাগর বাহিনীর নামে বিকাশ নম্বরে মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমার ট্রলারের মাঝি রুহুল আমিনকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় টাকা চেয়েছে। " তিনি বলেন, "টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ইতিমধ্যে পাথরঘাটা উপজেলার হাড়িটানা গ্রামের আ. মন্নান মোল্লার ছেলে হানিফাকে আমার মাঝির বাড়িতে টাকা আনার জনা পাঠায় ওই বাহিনী। "

একই অভিযোগ করেন ট্রলার মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন, আবুল হোসেন, আলম মিয়া, সিদ্দিক মিয়া, সুলতান মিয়া, রুহুল আমিন, সেলিম ফরাজীসহ একাধিক ট্রলার মালিক।

বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মন্নান মাঝি বলেন, "মৌসুম শেষে সাগরে মাছ পড়তে শুরু করেছে পাশাপাশি ফোনে চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রলার মালিকরা সাগরে যেতে না পারলে লোকসানে পড়বেন। "

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, "জলদস্যু বাহিনী বর্তমানে সুন্দরবনের শ্যালা ও ছাপরাখালী এলাকায় অবস্থান করছে। সেখানে বসেই তারা মোবাইল ফোনে ট্রলার মালিকদের কাছে আগাম টাকা চাচ্ছে। " তিনি আরো বলেন, "ইতিমধ্যে এ খবর কোস্টগার্ড দক্ষিণ-পশ্চিম জোন এবং র‍্যাব ও নৌবাহিনীর কাছে জানানো হয়েছে। "  

এ বিষয় পাথরঘাটার কোস্ট গার্ডের কমান্ডার লে. সৈয়দ আবদুর রউফ বলেন, "এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এ ধরনের তথ্য আসেনি। তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সবসময়ই আমাদের টহল অব্যাহত থাকে। "

র‍্যাব ৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির আজ মঙ্গলবার টেলিফোনে বলেন, "আমাদের তৎপরতায় কোনো ডাকাত সাগরে ডাকাতি করার সাহস পাচ্ছে না। কিছু দুষ্ট চক্র মোবাইলে চাঁদাবাজি করতে পারে। তবে তাও আমাদের নজরদারিতে আছে। " জেলেদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "সাগরে এখন প্রচুর মাছ, জেলেরা নিশ্চিন্তে  সবাই ইলিশ ধরতে যেতে পারে। "  

 


মন্তব্য