kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভোলায় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

ভোলা প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২১



ভোলায় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

গত আগষ্ট মাসের মাঝামাঝিতেও ভরা মৌসুমে উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার নদ-নদী কিংবা বঙ্গোপসাগরে ইলিশের দেখা পাওয়া যায়নি। এখন জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে।

মাছ ধরার ট্রলার বোঝাই ইলিশ নিয়ে সাগর ও নদী থেকে ভোলার উপকূলে ফিরছে জেলেরা। এরই মধ্যে দেশের অন্যতম মৎস্যকেন্দ্র ভোলার বিভিন্ন মাছের আড়তগুলোতে রুপালী ইলিশে সয়লাব হয়ে গেছে। এতে করে আড়তদারদের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিলে এসেছে। জমজমাট হয়ে উঠেছে মৎস্যকেন্দ্রের আড়তগুলো। ভোলার নদ-নদী এবং সাগরে রুপালী ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে, আড়তদার, ব্যবসায়ী ও বরফ মালিক-শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। জেলে পল্লীতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মাছঘাট ছাড়াও ভোলা শহরের বাজারে, রাস্তায়, পথে-ঘাটেও দেখা গেছে ইলিশের ছড়াছড়ি। দামও আগের তুলনায় কম। গত কয়েকদিন ধরে ভোলার নদী-নদীতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালী ইলিশ ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন জেলে, আড়তদার, ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সংশ্লিষ্টরা।

আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশ বোঝাই অন্তত ১৫-১৬টি মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে নোঙর করে রেখেছে জেলেরা। আরো অন্তত ৫-৬টি ইলিশ বোঝাই ট্রলার নদী ও সাগর থেকে উপকূলের দিকে ছুটে আসছে। ইলিশ বোঝাই ট্রলার তীরে আসা মাত্রই তীর থেকে আড়তে নিচ্ছে জেলেরা। আর আড়তদাররা ইলিশ বরফ দিয়ে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করছে মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে। মাছ ব্যবসায়ীরা সেই ইলিশ ভোলা জেলার বাজার ছাড়াও ঢাকা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছে। জোয়ারের সময় জেলেরা আরো অনেক বেশী ইলিশ বোঝাই ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরছে বলে জানান জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।  

তুলাতলী মাছঘাটে কথা হয় ধনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জেলে তৈয়ব আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি আজ (গতকাল সোমবার ) ভোর ৭টার দিকে নদীতে গিয়ে তীরে ফিরেছি দুপুর ১টায়। ছোট সাইজের ইলিশ মাছ পাইছি প্রায় ৩ হালি, যার মূল্য প্রায় দেড় হাজার টাকা।  

তৈয়ব আলী আরো বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে নদীতে ইলিশ পড়তে শুরু করেছে। গত এক মাস আগেও ভোলার নদ-নদী ছিল ইলিশ শুন্য। এখন জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে বলেও জানান তিনি।

ধনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে ও ইউনিয়ন ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বশির মাঝি বলেন, গত ১৫ দিন আগেও একজন জেলে প্রতিদিন মাত্র ২-৩ হাজার টাকার মাছ পেত। আর এখন একজন জেলে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকার মাছ পাচ্ছে। দামও আগের চেয়ে কম।  

তিনি আরো বলেন, ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০টাকায়। এক কেজি ওজনের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২২০০টাকায়। জাটকার হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫০টাকায়।      

তুলাতলী মাছঘাটের আড়তদার রোমান পাটওয়ারী বলেন, নদীতে এখন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। তিনি আরো বলেন, জোয়ারের সময় এ ঘাটে প্রতিদিন প্রায় পঞ্চাশ লাখ টাকার মাছ বেচা-কেনা হয়। ওই সময় প্রায় ২৫০ ইলিশ বোঝাই ট্রলার তীরে আসে। তখন তুলাতলী মাছ ঘাটটি জমজমাট হয়ে উঠে। এখন আর মাছের অভাব নেই। এখন অভাব শুধু বরফের।  

রোমান পাটওয়ারী বলেন, অনেক সময় বরফের কারনে বহু মাছ নষ্ট হচ্ছে। চাহিদা মত বরফ পাওয়া যাচ্ছেনা বলেও জানান এ আড়তদার।

এদিকে তুলাতলী আইচ ফেক্টরির এক কর্মচারি মোঃ জাকির হোসেন বলেন, হঠাৎ করেই সাগর ও নদীতে ইলিশ পড়ায় তারা চাহিদা মত বরফ দিতে পারছেন না। তাদের বরফ কলে প্রতিদিন ২২৫ কেন বরফ তৈরি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আগে প্রতি বরফ বিক্রি করা হতো ১৫০ টাকায়। আর এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০টাকায়।  

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান, আগে যে পরিমাণ বর্ষা পড়ার কথা সে পরিমাণ বর্ষা না পড়ায় সাগর ও নদীতে আশানুরুপ ইলিশ ধরা পড়েনি। এখন প্রচুর বর্ষা হওয়ায় সাগর ও নদ-নদীতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ ধরা পড়ছে।


মন্তব্য