kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের ৫ দিন পর ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৪০



কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের ৫ দিন পর ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের ৫ দিন পর মো. বাছের রনি (৩৪) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন নুরুন্ডি এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিছন থেকে রনির লাশ উদ্ধার করা হয়।

লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।  

জানা গেছে, গত বুধবার শশুড় বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি রনি। এরপর থেকে নিখোঁজ থাকে সে। রনি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বাবা আব্দুল বারেক সরদার বাদী হয়ে শাক্তা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল আহমেদকে (৩২) আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রুবেল ছাড়াও হযরত (৩০), বাবু (৩৮) সাগর (২২), নাইম (২৫), বাক্কু (২৮) ও দিপুসহ (২৫) অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। রনির বাবার অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতা রুবেল আহমেদ খুন করেছে তার ছেলেকে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নিখোঁজ রনির বাবা থানায় মামলা দায়ের করার পর থেকেই আমরা তাঁর ছেলের সন্ধান করার জন্য বের হই। সোমবার বিকেলে লোকমুখে শুনতে পাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিছনে এক যুবকের লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি লাশটি রনির। লাশের সারা শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ’ 

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা তদন্ত করে দেখা যায় মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রুবেলের সাথে রনির দ্বন্দ ছিল।

নিহত রনির বাবা আব্দুল বারেক সরদার বলেন, গত ৩০ আগষ্ট জিনজিরা ইউনিয়নের মডেল টাউনের নিজ বাসা থেকে বের হয়ে রনি নতুন ভাড়ালিয়া এলাকায় তার শশুড় বাড়িতে বেড়াতে যায়। ৩১ আগষ্ট সকালে সে শশুড় বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসলে রনির স্ত্রী ডলি আক্তার আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ থাকে। অনেক খোঁজাখুজি করে নবাবচর এলকায় গিয়ে লোকমুখে জানতে পারি সাগর, দিপু, বাপ্পি ও নাইম আমার ছেলেকে রিকশায় তুলিয়া নিয়ে গেছে। এরা সকলেই ছাত্রলীগ নেতা রুবেলের সহযোগী। পরে রনিকে না পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ২ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের করি। আজ হাসপাতালের পেছন থেকে আমার ছেলের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হলো।  

তিনি আরও বলেন, রুবেলের সাথে আমার ছেলের বিরোধ ছিল। সে ইতিপূর্বে কয়েকবার আমার ছেলেকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। রুবেল লোকজন দিয়ে রনিকে অপহরণ করে মেরে ফেলেছে। রনি যাত্রাবাড়ী এলাকায় আমার ভাই আব্দুল লতিফের গার্মেন্ট দেখাশোনা করতো।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদাউস হোসেন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তল্লাশি চলছে।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগ নেতা রুবেল আহমেদ পলাতক থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


মন্তব্য