kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরাজগঞ্জে জেএমবি’র আত্মঘাতী দলের ৪ মহিলা সদস্য আটক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:২৭



সিরাজগঞ্জে জেএমবি’র আত্মঘাতী দলের ৪ মহিলা সদস্য আটক

সিরাজগঞ্জের গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের মা ও ২ মেয়েসহ জেএমবি’র ৪ মহিলা আত্মঘাতী সদস্যকে আটক করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাজিপুর উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের বড়ইতলা গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

এ সময় বিপুল পরিমাণ জেহাদী বই ও কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়।  

আটককৃত জেএমবি সদস্যরা হলেন- আবু সাইদের স্ত্রী ফুলেরা খাতুন (৪৫), তাদের মেয়ে সাকিলা খাতুন (১৮), সালমা খাতুন (১৬) ও রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ রাজিয়া (৩৫)।

এ বিষয়ে ডিবি পুলিশের ওসি ওহেদুজ্জামান জানান, আটককৃতরা সকলেই সক্রিয় জেএমবির সদস্য। আজ সোমবার ভোর রাতে তারা বড়ইতলা গ্রামের ফরিদুলের বাড়িতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতা কার্যকলাপ করার লক্ষে গোপন বৈঠক করছিল। ফরিদুল জেএমবির একজন উচ্চ পর্যায়ের সদস্য। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।  

তিনি আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বাড়িতে ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। সেখানে বৈঠক করা অবস্থায় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ জেহাদী বই, কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, তারা জেএমবি সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিল। সেই সাথে তারা এই সংগঠনের হাই কমান্ডের নির্দেশ পেলেই ফিদায়ী হামলা অর্থাৎ আত্মঘাতী হামলার উদ্দেশে হিজরতে রওনা করত। তারা ইতিমধ্যেই নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে ফেলেছিল। নির্দেশনা পেলেই তারা আত্মঘাতী হামলা চালাতো বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে গান্ধাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম জানান, আটককৃত ফুলেরা খাতুনের ছেলে জেএমবি'র উচ্চ পর্যায়ের সদস্য ফরিদুল গত কয়েক বছর যাবত বাড়ি ছেড়ে নিখোঁজ রয়েছে। তার বাবা সবজি বিক্রেতা আবু সাঈদও নিখোঁজ রয়েছে অনেকদিন ধরে। এই পরিবারের সদস্যের কেউ গ্রামের মানুষদের সাথে মিশতো না বা কোন ধরনের সখ্যতাও ছিল না। সে জন্য তারা যে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত রয়েছে তা এলাকাবাসী সন্দেহই করতে পারেনি। তাদের এই জঙ্গি তৎপরতার সাথে জড়িত হবার কারণে এলাকাবাসী তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হলেও কেউ ভীত নয়। গ্রামবাসী এই ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কাজের সাথে জড়িত থাকার কারণে তাদের উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবি'র নারী সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ফিদায়ী হামলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছিল। উচ্চ পর্যায়ের ঘোষণা এলেই তারা হিজরতে যেতো এবং তারা কাফির, মুসরিক, মুরতাদ ইসলামের শত্রুদের হত্যা করে জান্নাতবাসী হতো বলে তারা মনে করে। সঠিক সময়ে তাদের আটক করার কারণে সাধারন মানুষ হয়তো বা বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।  

তিনি আরো জানান, নিখোজ ফরিদুল ও তারা বাবা আবু সাইদ পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাদের খুজছিলো। আরো তথ্য জানার জন্য বর্তমানে তাদের ডিবি অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর থেকে ৮ জন নারী জেএমবি সহ ২১ জন জেএমবি সদস্যকে আটক করেছে সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশ। এর মধ্যে সর্বশেষ কাজিপুর থেকে আত্মঘাতী দলের সদস্যরা ধরা পড়ে।  


মন্তব্য