kalerkantho


দীঘিনালায় দোকানিকে গলা কেটে হত্যা

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি    

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৩৩



দীঘিনালায় দোকানিকে গলা কেটে হত্যা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বাদল মিয়া (৪৬) নামে এক দোকানিকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল  রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের আশ্রম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাদল মিয়া একই এলাকার মৃত রশিদ খাঁর ছেলে।

নিহতের স্ত্রী কুলসুম বেগমকে (৩৮) অজ্ঞান অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার আগের নিহত বাদল মিয়াও অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, হত্যার আগে স্বামি-স্ত্রী উভয়কেই ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আশ্রম এলাকায় বাদল মিয়ার একটি দোকান রয়েছে। পেছনেই দোকানসংলগ্ন বসতঘর তার। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ঢলে পড়েন তিনি। এ সময় উপস্থিত লোকজন প্রায় অচেতন অবস্থায় বাদলকে ঘরে রেখে আসেন। পর স্ত্রী স্বামীর মাথায় কিছুক্ষণ পানি ঢেলে নিজেও শুয়ে পড়েন। সকালে বড় ছেলে শাকিল (১৩) ডাকা-ডাকি করলেও বাবা-মায়ের ঘুম না ভাঙ্গায় সে প্রতিবেশীদের জানায়। প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখে বিছানায় বাদল মিয়ার গলাকাটা লাশ ও পাশেই তাঁর অচেতন স্ত্রী। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে লাশ উদ্ধার করে এবং নিহতের স্ত্রী কুলসুম বেগমকে হাসপাতালে পাঠায়।
 
অপরদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, শনিবার বাদল একটি গরু বিক্রি করেছিলেন ১৫ হাজার টাকায়। রবিবার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা  ব্র্যাক থেকে তিনি ঋণ তুলেছিলেন ২০ হাজার টাকা। একইদিন স্থানীয় একটি সমিতির লটারিতে তিনি পেয়েছিলেন ১৭ হাজার টাকা। তাদের ধারণা, পার্শ্ববর্তী বা দোকানে সবসময় আড্ডা দেয় এমন কেউ টাকার খবর নিশ্চিত হয়ে তাদের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে বাদলকে হত্যা করেছে।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রইছ উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। দীঘিনালা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।   বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহভাজনদের  জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 


মন্তব্য