kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জলঢাকায় পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ছয় কাউন্সিলরের সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:০৪



জলঢাকায় পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ছয় কাউন্সিলরের সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল কমেটের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যসহ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই পৌরসভার ছয় কাউন্সিলর। আজ শনিবার বেলা ১২টার দিকে নীলফামারী প্রেসক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র।

সংবাদ সম্মেলনে ছয় কাউন্সিলর অভিযোগ করে বলেন, গত ১২ জুলাই জলঢাকা পৌরসভায় প্রহসনের পরীক্ষার মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জলঢাকা পৌরসভায় সাতজন কর্মচারী নিয়োগ দেন মেয়র। যার মধ্যে ছয়জনের বাড়ি মেয়র ফাহমিদ ফয়সালের গ্রামের বাড়ি বগুলাগাড়ি এবং একজনের বাড়ি পৌরসভার সচিব আশরাফুজ্জামানের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায়। তিনি সচিবের স্বজন বলে দাবি করেন তাঁরা।

তাঁরা বলেন, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য আমরা গত ১১ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করলে জেলা প্রশাসক স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষা নেওয়া হয় প্রহসনের। পরে আমরা ২৩ জুলাই ওই নিয়োগ বাতিল ও মেয়রের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে আবারও লিখিত অভিযোগ করি। যার অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন দিনাজপুরে দেই। কিন্তু আমরা কোথাও কোনো প্রতিকার পাইনি।

কাউন্সিলররা আরো বলেন, শুধু নিয়োগ বানিজ্যই নয়, পৌরসভার সচিব আশরাফুজ্জামানের সহযোগিতায় পৌর মেয়র জলঢাকা পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা, হোল্ডিং ট্যা· ও ট্রেড লাইসেন্স  নবায়নের অর্থ উত্তোলন করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর প্রতিবাদ করলে আমাদের রক্ত চক্ষু দেখানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রহমত আলী। এতে উপস্থিত ছিলেন দুই নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিশ্বনাথ রায়, ছয় নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজলুর রহমান, আট নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রনজিৎ কুমার রায়, নয় নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মহসীন আলী এবং এক, দুই, তিন নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আফরোজা বেগমের পক্ষে তার স্বামী হাফিজুর রহমান।

এদিকে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল বলেন, ‘একটি মহলের ইন্ধনে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করতে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগের মূল বিষয় কর্মচারী নিয়োগ। আইনগত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার আগে তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য জেলা প্রশাসক চারজন প্রতিনিধি দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরাই প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। স্বচ্ছতা নিয়ে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নেই।

এ সময় পৌরসভার রাজস্ব খাতের টাকা ভুয়া ভাউচারে আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আগে পৌরসভার হাট ইজারা হতো সর্বচ্চ ৪৫ লাখ টাকায়।  এবার ৭৫ লাখ ৫৫ হাজার পাঁচ শত টাকা ইজারা হয়েছে। অন্যান্য রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। সকলের সম্মতিক্রমে রেজুলেশনের মাধ্যমে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ চলছে। আমি কোথাও দুনীতি করলে তারা প্রমান করুক।

পাল্টা পৌর মেয়র অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবা ওই পৌরসভার মেয়র থাকাকালে বাবার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তাদের কয়েকজন এবারও নির্বাচিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তারা চাচ্ছেন না, আমি জলঢাকা পৌরসভায় মেয়র থাকি।

মেয়র ফাহমিদ ফয়সালের বাবা মরহুম আনোয়ারুল কবির চৌধুরী এর আগে জলঢাকা পৌরসভায় একাধিকবার মেয়র ছিলেন।


মন্তব্য