kalerkantho


কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী নিহত

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৩৫



কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী নিহত

কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ইমরান হোসেন (২৫) নামে এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এর আগে একই ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরিফ (২৬) নামে আরো এক যুবক আহত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন পারগেন্ডারিয়া ইসলামনগর হাজি ওসমান গনি রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। অপরদিকে আরিফকে আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য স্যার সলিমল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে শহিদুল নামের ওই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত ইমরানের বাবা মোহাম্মদ হোসেন জানান, তার ছেলে পারগেন্ডারিয়া ইসলামনগর হাজি ওসমান গনি রোড এলাকায় নিজ বাড়ির নীচে গার্মেন্ট কারখানা করে ব্যবসা করে আসছিল। তার কোন শত্রু নাই। ঘটনার সময় তার ছেলে ইমরান ও তার বন্ধু হৃদয় মিলে আখ খাচ্ছিল। এমন সময় তাদের উল্টোদিক থেকে দুটি ছেলে একটি যুবককে হাতে ধারালো ছোড়াসহ ছিনতাইকারী ছিনতাইকারী বলে ধাওয়া দিয়ে চেচামেচি করে আসছিল। আমার ছেলের কাছে আসতেই ছিনতাকারী ওই দুই ছেলেকে থামতে বলে না হয় আখ দিয়ে পেটাবে বলে জানায়।

কিন্তু ছিনতাইকারী তার হাতে থাকা ছুড়ি দিয়ে আমার ছেলের পেটের বাম পাশে একটি আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আঘাতের পর ইমরান মাটিতে লুটে পড়ে যায়। তখন হৃদয় ও পেছনে আসা ওই দুইটি ছেলের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও আমরা এগিয়ে এসে দ্রুত ইমরানকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল নিয়ে আসি। সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মনিরুজ্জামান খান বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে পারগেন্ডারিয়া এলাকায় আরিফ নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় শহিদুল নামে এক যুবককে ছিনতাইকারী ছিনতাইকারী বলে তাড়া করছিল দুই যুবক। এ সময় ইমরান ও হৃদয় নামে দুই যুবক শহিদুলের গতিরোধ করার চেষ্টা করলে শহিদুল ইমরানের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে ইমরানকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর কর্ত্যব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে শুক্রবার ভোরে ইমরানের বাবা মোহাম্মদ হোসেন বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পরে হৃদয়ের বর্ননা মতাবেক নিজস্ব সোর্স ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে শহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছে থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুড়ি ও রক্তমাখা প্যান্ট ও টিশার্ট উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত শহিদুলের সাথে বৃহস্পতিবার রাতে জোজো নামে এক যুবকের বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে শহিদুল তাকে মারধর করে পালিয়ে যায়। এর জের ধরে জোজোর পক্ষ নিয়ে আরিফ নামে আরেক যুবকে শুক্রবার রাতে শহিদুলকে আটক করে। শহিদুল তার হাতে থাকা ছুড়ি দিয়ে আরিফের পিঠে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে দৌড়ে পারগেন্ডারিয়া ইসলামনগর হাজি ওসমান গনি রোড এলাকায় আসলে সেখানে ইমরান ও হৃদয় নামের দুই যুবক তার গতিরোধ করার চেষ্টা করে। এ সময় শহিদুল ইমরানের পেটেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ইমরানের স্বজন ও এলাকাবাসী আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন।  

ওসি মনিরুল আরো বলেন, শনিবার ভোরে আমরা কালিগঞ্জ তেলঘাট এলাকা থেকে শহিদুলকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।


মন্তব্য