kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাথরঘাটায় চুরির অপবাদে যুবককে নির্যাতন

পাথরঘাটা (বরগুনা)প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৩৪



পাথরঘাটায় চুরির অপবাদে যুবককে নির্যাতন

বরগুনার পাথরঘাটায় চুরির অপবাদে এক যুবকের উপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক ইউপিসদস্য ও নৌ পুলিশ ফাড়ির এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠেছে।

ঘটনার দিন বুধবার (৩১ আগষ্ট) নির্যাতিত যুবক বাবুলের বাবা মো.ছগির হোসেন পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ও শুক্রবার সকালে পাথরঘাটা প্রেসক্লবে সংবাদ সম্মেলন করে হয়রানি বন্ধের দাবিসহ বিচার চেয়েছেন।

অন্যদিকে চুরির অভিযোগে যুবক বাবুল ও তার বাবা মো.ছগির হোসেন ওরফে শুক্কুরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় রিকশা চালক জালাল বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেবর) পাথরঘাটা থানায় মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ছগির হোসেন জানান, উপজেলার রূপধন গ্রামের কাটাখালী বাজার থেকে গত ২৬ আগষ্ট অটো রিকশার দুইটি মোটর চুরি হয়। এ ঘটনায় ৩১ আগষ্ট বিকেলে স্থানীয় কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মকবুল হোসেন মিলনসহ ৫ থেকে ৬ জনে কাকচিড়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে যায়। নিয়ে আসার পথে কাটাখালী ও ঘুদিঘাটা বাজারে বসে লাঠি দিয়ে নির্যাতন করার পর বাবুলকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। সেদিন রাতে(বুধবার) কাকচিড়া নৌপুলিশ ফাঁড়ি কার্যালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় মন্ডল এবং ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন মিলন বাবুলের ওপর আবারও অমানুষিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের ফলে বাবুল অসুস্থ হয়ে পরে। সে বমি করতে থাকে। এ সময় তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে তাকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরের দিন ১ আগষ্ট (বৃহস্পতিবার) চুরির ঘটনায় ছেলে বাবুল, ছগির হোসেন ও জসিমের বিরুদ্ধে পাথরঘাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ৩১ আগষ্ট পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চুরির ঘটনায় হয়রানি বন্ধ ও নির্যাতনের বিচার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন কাটাখালী বাজারের ইজারাদার ছগির হোসেন। কিন্তু বৈশাখ থেকে প্রায় ৫ মাস পর্যন্ত ওই বাজারে টোল আদায় করতে বাঁধা দিয়ে আসছেন কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু।

অভিযোগ প্রসংঙ্গে কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মকবুল হোসেন মিলন বলেন, কাটাখালী বাজারের বেশকিছু লোকে বাবুলকে ধরে আমার কাছে দিয়েছে। আমি তাকে ফাঁড়িতে হস্তান্তর করেছি। তবে তাকে (বাবুল) ধরার সময় কয়েক জনে তাকে মারধর করেছে।

কাকচিড়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও এসআই সঞ্জয় মন্ডল বলেন, এখানে হস্তান্তরের সময় তার (বাবুল) নাক দিয়ে রক্ত পরতে দেখা গেছে। তবে ধারনা করা হচ্ছে ধরার সময় তাকে মারধর করা হয়েছে।


মন্তব্য