kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে অনিয়ম : ক্ষুব্ধ হরিজন সম্প্রদায়

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৫২



পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে অনিয়ম : ক্ষুব্ধ হরিজন সম্প্রদায়

সরকারি নিয়ম ভেঙে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তা প্রভাবশালী হবার কারণে কোনো নিয়মই মানছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুুক্তভোগীরা।

আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে।

গত কয়েক বছর ধরে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিরাপত্তা আর পরিচ্ছন্নতাকর্মী আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ৮০% কোটা জাত সুইপারদের নির্ধারিত থাকলেও তা না মেনে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে অন্য জাতের মানুষদের। এবার এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছে হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষরা।

পঞ্চাশোর্ধ কমলা রানী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তার স্বামী দিলিপ কুমার এই হাসপাতালেই কাজ করতে করতে মারা গিয়েছেন। তিনিও কাজ করছেন অন্তত ১৫ বছর। কিন্তু যখনই নিয়োগের বিষয় আসে তখনই নিয়ম ভেঙে নিয়োগ দেওয়া হয় অন্য সম্প্রদায়ের মানুষদের। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আমাদের আর তো কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।

সিরাজগঞ্জ স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা নব কুমার জানান, নিয়োগে অনিয়মের কথা আমরাও শুনেছি। আমাদের মতে স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারেরই একটা অংশ। তারা যখন নিয়ম বেঁধে দেন, সেটা না মেনে যখন অন্য নিয়মে চলার চেষ্টা করে কেউ তখন সেটা সরকারের নিয়ম ভাঙার পর্যায় পড়ে। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সুরাহা না হলে হরিজনদের সাথে নিয়ে আন্দোলনে যাবেন।

সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার মোদাসেসর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে এই নিয়মেই চলছে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে একটা অভিযোগ উঠেছে সেটার বিষয়ে সিভিল সার্জন সাহেবের সাথে কথা চলছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মাদ মনজুর রহমান জানান, নিয়োগ নিয়ে একটি জটিলতা হয়েছে, সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে এখানে আগে যারা ছিলেন, তারা এগুলো মেনে নিয়েছিলেন। এবং এ নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। তবে এবার কোটার বিষয়টি নজরে আসায় সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পাশাপাশি এটাও ভাবার বিষয় অভ্যন্তরীণ এ জটিলতা নিয়ে রোগীদের সেবার কোনো অনিয়ম বা সময়ক্ষেপণ করা যাবে না।

হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের আশঙ্কা প্রথা ভেঙে এ নিয়ম চলতে থাকলে আগামীতে তাদের সম্প্রদায়ের মানুষদের আর কোনো কাজই থাকবে না।


মন্তব্য