kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়ক ২ বছরেই মৃত্যুফাঁদ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:১১



১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়ক ২ বছরেই মৃত্যুফাঁদ!

বরিশালের গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক সমস্যা।

সওজ বিভাগ মহাসড়টি কোন রকমে জোড়াতালির মাধ্যমে কাজ করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদের তৎকালীন চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর প্রচেষ্টায় গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করা হয়। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে প্রকল্পটি ‘রাজনৈতিক  প্রকল্প’ দেখিয়ে বরাদ্দ বাতিল করে। বরাদ্দকৃত অর্থ নেয়া হয় সিলেটের একটি  প্রকল্পে। ফলে মহাসড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে পুনরায় দরপত্র আহবান করে। এডিপি’র অর্থায়নে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১টি কালভার্টসহ গৌরনদী থেকে আগৈলঝাড়া সদর পর্যন্ত ৮.২০ কিলোমিটার মহাসড়কের নির্মাণ কার্যাদেশ দেয়া হয় বরিশালের ওটিবিএল নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। অপরদিকে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি কালভার্ট ও একটি ব্রিজসহ আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর থেকে পয়সারহাট পর্যন্ত ৭.৬ কিলোমিটার মহাসড়কের অপর অংশের কার্যাদেশ দেয়া হয় ফরিদপুরের সেংগুইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড নামের আরেকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে।

১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২৬ ফুট প্রসস্থ সড়ক, চওড়ার উভয় পাশে ৩ ফুট করে ফুটপাত, সড়কে আটটি কালভার্ট, একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ওই দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুটি বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে দুদফায় সময় বাড়িয়ে ২০১৪ সালে মহাসড়কের নির্মান কাজ শেষ করে।

নিম্নমানের কংক্রিট ম্যাকাডম আর রোলার সঠিক ব্যবহার না করা, মহাসড়কে ঢাল না দেওয়ায় ২ বছর ঘুরতেই ওই সড়কের বিভিন্নস্থানে কাপেটিং উঠে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে যানচলাচল ব্যহত হচ্ছে। সম্প্রতি বর্ষায় মহাসড়কে বিভিন্নস্থানের পার্শ্বসহ পয়সারহাট ব্রীজের এ্যাপ্রোচ সড়ক ধ্বসে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পরেছে। রাতের অন্ধকারে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এ ব্যাপারে সওজ’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী এমএম হানিফ বলেন, মহাসড়কের কাজ ২০১৪ সালে শেষ হয়েছে। বর্ষণের ফলে সড়কের বিভিন্নস্থানে গর্ত বা কাপেটিং উঠে যেতে পারে। তবে আমরা সাথে সাথে তা সংস্কার করে দিচ্ছি।


মন্তব্য