kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


নোঙর ফেলি ঘাটে ঘাটে..

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ১৪:০৩



নোঙর ফেলি ঘাটে ঘাটে..

উপকূলীয় মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যায় সাধারণ মানুষকে আরও অধিক সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যক্ষ্মা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সমস্যা, বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীর নানা শারীরিক পরিবর্তনে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়াসহ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা তৃণমূল মানুষ এখনও অসচেতন।

উপকূলের মানুষের এ ক্ষেত্রে সচেতন করা যেমন জরুরি তেমনি স্বাস্থ্য সেবা তাঁদের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া অধিক দরকারি। সেই সাথে বাল্য বিয়ের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো প্রতিরোধে মানুষকে সচেতনভাবে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। তেমন জনগুরত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উপকূলের নদীপথে ছুটে চলছে স্বাস্থ্য তরী 'নোঙর ফেলি ঘাটে ঘাটে'। আটজন উন্নয়নকর্মী দলের  সমন্বয়ে এ স্বাস্থ্য তরী নৌপথে জনস্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবার কাজ করছে। গতকাল শনিবার 'নোঙর ফেলি ঘাটে ঘাটে' স্বাস্থ্য তরী পিরোজপুরের কাউখালীর গাবখান নদের গারতা খালের মোহনায় ভিড়লে স্থানীয় উৎসুক এলাকাবাসী সেখানে ভিড় করেন। পরে স্বাস্থ্য উন্নয়নকর্মীরা এ নৌযানের ভেতরে ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র জনসাধারণের মাঝে প্রদর্শন করেন।

জানা গেছে, ই্উএসএইড (টঝঅওউ)-এর সহযোগিতায় উপকূলীয় বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সোশাল মার্কেটিং কম্পানি (এসএমসি) এ ভাসমান স্বাস্থ্য তরী উপকূলে কাজ করছে। এতে অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীর মাধ্যমে যক্ষ্মা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সমস্যা, বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীর নানা শারীরিক পরিবর্তনে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়াসহ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে নানা তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এ স্বাস্থ্য তরীর টিম লিডার এস এম ইমাম হোসেন জানান, ২০১৩ সালে ৪ এপ্রিল ই্উএসএইড-এর আর্থিক সহযোগিতায় নতুনদিন নামে এ ভাসমান প্রকল্পটি শুরু হয়। এযাবৎ ফরিদপুর, বরিশাল, মাদারীপুর, চাঁদপুর, পিরোজপুরের নৌপথের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাসমান স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠিতে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। টিভি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভাসমান লঞ্চে বসে মনোরম পরিবেশে নাটক ও নানা চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাল্যবিয়ের কুফল ও প্রতিরোধের ওপর সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কুইজ প্রতিযোতিতাসহ স্বাস্থ্য বিষয়ে নানা প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে।

 


মন্তব্য