kalerkantho


রৌমারীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা: মেয়ের পরিবারকে ভয়ভীতি, ধামাচাপার চেষ্টা

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ২৩:৪৭



রৌমারীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা: মেয়ের পরিবারকে ভয়ভীতি, ধামাচাপার চেষ্টা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বখাটে ইউপি চেয়ারম্যানের লোক হওয়ার কারণে মেয়েটির দরিদ্র পরিবারটিকে নানা ভয়ভীতি, এমনকি জোরপূর্বক সালিশ বসাতে বাধ্য করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

লোক দেখানো সালিশ বৈঠকে অভিযুক্ত বখাটের কাছ থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে তার অর্ধেক টাকা নির্যাতিত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন আলোচনা সমালোচনা এখন মানুষের মুখে মুখে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাইমমারী গ্রামের বাসিন্দা মাহফুজুল হকের বাড়িতে ওই ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচার সালিশ অনুষ্ঠিত হগয়। যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান শরবেশ আলী ও স্থানীয় কোমরভাঙ্গি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান শরবেশ আলী। সালিশে অভিযুক্ত বখাটে মাসুদ রানার ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার ওই টাকার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে নির্যাতিত পরিবারকে। আদারস (অন্যান্য) খরচ বাকী ৪০ হাজার টাকা। তবে চেয়ারম্যান শরবেশ আলী ৬০ হাজার টাকা জরিমানার কথা স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, উপজেলার বাইমমারী গ্রামের দিনমজুর ঘরের ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বৃহষ্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় একই এলাকার মাসুদ রানা (২৭) নামের এক বখাটে। অভিযুক্ত বখাটে যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান শরবেশ আলীর ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে কাজ করেন। আর তার প্রভাব খাটিয়ে ঘটনার পরপরই নির্যাতিত পরিবারটি যাতে থানায় যেতে না পারে এজন্য নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হয়। অবশেষে থানা পুলিশ খবর পেয়ে নির্যাতিত পরিবারটির সঙ্গে কথা বললে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।

আজ শনিবার সরজমিনে ওই গ্রামে নির্যাতিত পরিবারটির সঙ্গে কথা বললে নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, থানায় মামলা করছি। তারপরও জোরপূর্বক আমাকে বিচারে হাজির করে মিলমিশ হতে বলে। আমি সুষ্ঠ বিচার চাইছি কোনো টাকা পয়সা চাইনি। ওই
স্কুলছাত্রীর মা বলেন, গেরামের মানুষ কয় মামলা তুইলা আনো। আমরা বিচার কইরা দেই। আইতে বিচার হইছে সকালেই তারা নানান কতাই কইছে। মাইয়াডার পড়া বন্ধ কইরা দিব তারা। আবার কয় তোর মাইয়াক তুইলা নিয়া যাইয়া আবার জরিমানা দিমু। এসব কথা নিয়া এহন বিপদে আছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান শরবেশ আলী বলেন, মেয়ে মানুষ নিয়া মামলা মোকাদ্দমা ভালো নয়। এ কারণে আমরা এলাকাবাসী বইসা একটা মিমাংশা করে দিছি। মিমাংশা অনুপাতে তারা থানা থেকে মামলা তুইলা আনবে।

তবে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম সাজেদুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনার পরপরই আমরা নির্যাতিত পরিবারটিকে থানায় নিয়ে এসে মামলা নিয়েছি। তাছাড়া এ ধরনের অপরাধের কোনো সালিশ বৈঠক বিচার বা মিমাংশা করতে পারে না। আমি মিমাংশার বিষয়টি শুনেছি কিন্তু তাতে লাভ নেই। আমরা তদন্ত করে চার্জশীট দিব।

 


মন্তব্য