kalerkantho


এমপির উপস্থিতিতে দুর্গাপুরে আ. লীগের দু'পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ১৯:৫১



এমপির উপস্থিতিতে দুর্গাপুরে আ. লীগের দু'পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ৩০

রাজশাহীর দুর্গাপুরে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার বিকেলের এ ঘটনায় এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা এবং উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।

আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। এ সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মকছেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, দাওকান্দি কলেজ অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হকসহ কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের মধ্যে কয়েকজনকে দুর্গাপুর থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পর এলাকায় এমপি আব্দুল ওয়াদুদ গ্রুপ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মজিদ গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেলে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই করতে রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা। সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে দেড়-দুই হাজার নেতাকার্মী রসুলপুর মাঠে গিয়ে জড়ো হন। এর পর মজিদ পক্ষের সঙ্গে এমপি দারা পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় এমপি দারা ও উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের গাড়িও ভাঙচুর করে মজিদ পক্ষের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় অন্তত অন্তত ৩০ জন আহত হন।
 
এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারার ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে তার পক্ষের লোকজন আগে এমপির ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় নেতাকর্মীরা বাধা দিতে গেলে মজিদ গ্রুপের পক্ষের লোকজন তাদের ওপরও লাঠি-সোঠা নিয়ে হামলা করে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

তিনি আরো বলেন, হামলাকারীরা এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িও ভাঙচুর করে। পরে নেতাকর্মীদের পাহারায় এমপি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
 
এদিকে আব্দুল মজিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আগে এমপি দারা পক্ষের লোকজন মজিদ পক্ষের ওপর হামলা করে।
 
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তি বলেন, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।
 

 

 

 

 

 

 


মন্তব্য