kalerkantho

25th march banner

হত্যা মামলা মিটমাটের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়

অপবাদ রটিয়ে নারীকে বেদম প্রহার ইউপি সদস্যের

সোহেল হাফিজ, বরগুনা    

২ এপ্রিল, ২০১৬ ১৩:২৪



অপবাদ রটিয়ে নারীকে বেদম প্রহার ইউপি সদস্যের

আপন ছোট বোনের হত্যার বিচার চাওয়ায় মিথ্যে অপবাদ রটিয়ে বরগুনার তালতলীতে ফজিলা নামের এক দরিদ্র গৃহবধূকে সালিসের নামে বেদম প্রহার করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিক জোমাদ্দার। গুরুতর আহত অবস্থায় ফজিলা বেগম বর্তমানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নির্যাতনের শিকার ফজিলা বেগম জানান, তাঁর ছোট বোন রেহেনা হত্যা মামলা মিটমাট করে ফেলার জন্যে গত ২৪ মার্চ আসামিপক্ষের উকিলের মুহুরি জাকির তালতলীর জয়ালভাঙ্গা গ্রামে তাদের বড় বোন আলেয়ার বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে তালতলী বাজার থেকে স্বামী সানু মিয়ার ঠিক করে দেওয়া পরিচিত একটি ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে করে বোনের বাড়ি যান ফজিলা বেগম। সেখানে অপর আরেক বোন মামলার বাদী শাহনাজ ও অন্যান্য স্বজনদের উপস্থিতিতে অনেক আলোচনার পর আসামিদের পক্ষের দুই লাখ টাকার বিনিময়ে মামলাটি মিটমাট করে ফেলার প্রস্তাব দেন জাকির মুহুরি।

এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ফজিলা ও তার বোনরা। বিষয়টি জাকির মুহুরি আসামিপক্ষকে জানিয়ে দিলে ক্ষেপে যায় মামলার আসামিরা। তখন থেকেই চক্রান্ত করে ওত পেতে থাকে আসামিরা।

এদিকে, ওই দিনই সন্ধ্যার পরে ফজিলা বেগম তার বোনের বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি ফিরছিলেন পূর্বনির্ধারিত সেই ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে। পথে রেহেনা হত্যা মামলার আসামি মালেক প্যাদা এবং রফিক জোমাদ্দার মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে ফজিলা আর মোটরসাইকেলচালক ওয়াহাব মিয়াকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তাদের আপন চাচা শফিক জোমাদ্দারের বাড়ি।

সেখানে তাদের রাতভর আটকে রেখে অবৈধ সম্পর্কের আপবাদ দিয়ে বেদম প্রহার করেন ইউপি সদস্য শফিক জোমাদ্দারসহ রেহেনা হত্যা মামলার অন্য আসামিরা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য শফিক জোমাদ্দার।    

এ ঘটনায় ইউপি সদস্য শফিক জোমাদ্দারসহ ঘটনায় জড়িতদের অভিযুক্ত করে গত বৃহস্পতিবার বরগুনার আমতলীর আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন শাহনাজ বেগম। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তা শুনানির জন্যে এপ্রিল মাসের ২১ তারিখ ধার্য করেন।  

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ১১ মার্চ বরগুনা শহরের একটি ঘরে বন্দি বরে আট বছরের কন্যাশিশুর চোখের সামনে গৃহবধূ রেহেনা বেগমকে নির্মম নির্যাতনের পর খুন করে রেহেনা বেগমের দেবর জয়নাল প্যাদা, জয়নাল প্যাদার আপন ভাই মালেক প্যাদা, মামাত ভাই সাহেব আলী এবং খালাত ভাই মোস্তফা জোমাদ্দার। হত্যার পর ‌ওই হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা। পরে প্রত্যক্ষদর্শী ওই শিশুকন্যা ফাহিমার জবানবন্দি এবং স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই সময় প্রত্যক্ষদর্শী ওই শিশুকন্যার লালন পালনের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে শিশু ফাহিমা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বরগুনা জেলার সভানেত্রী নাজমা বেগম জানান, রেহেনা হত্যাকাণ্ডের আজ আট বছর চলছে। আজ অবধি আসামিদের কিছুই হলো না। হলো না বিচারেরও কিছু। মাঝখান থেকে রেহেনার বোন ফজিলা কাতরাচ্ছেন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে আর পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অপর বোন শাহনাজ। " তিনি বলেন, "সম্প্রতি এ বিষয়ে তিনি বরগুনা জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি মামলাটির খোঁজ নিয়ে করণীয় সকল বিষয়ে সচেষ্ট থাকবেন বলে জানিয়েছেন। "   

 


মন্তব্য