kalerkantho


বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর

নকলা ও শ্রীবরদীতে পৃথক হামলায় আহত ৪

শেরপুর প্রতিনিধি    

১ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:১৪



নকলা ও শ্রীবরদীতে পৃথক হামলায় আহত ৪

শেরপুরের নকলা ও শ্রীবরদীতে ইউপি নির্বাচনোত্তর পৃথক সহিংসতার ঘটনায় চারজন আহত হয়েছে। এ সময় আটটি বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

আজ শুক্রবার সকালে শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের খনচেপাড়া গ্রামে পরাজিত এক সদস্য প্রার্থীর বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের হামলায় জয়ী সদস্য প্রার্থীর চার সমর্থক আহত হয়েছেন।

এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর উরফা ইউনিয়নের খিচা ও বারমাইসা গ্রামে পরাজিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরে আলম তালুকদারের সমর্থকদের আটটি বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল হক হীরার সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে নূরে আলম তালুকদার অভিযোগ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে শ্রীবরদীর কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোরগ প্রতীকের বিজয়ী ইউপি সদস্য বদরুল আলম আসাদের কয়েকজন সমর্থক খনচেপাড়া বাজারে যাচ্ছিলেন। এ সময় ফুটবল প্রতীকের পরাজিত সদস্য প্রার্থী হিটলার মিয়ার ২০-২৫ জন সমর্থক আক্রাম মিয়া, জোদাদার মিয়া, কালাম, হাসেম মিয়ার নেতৃত্বে বদরুলের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় সাখাওয়াত হোসেন (৫০) ও মিস্টার মিয়া (৪৫) নামে দুইজনকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানায় যোগাযোগ করা হলে এসআই আক্তার হোসেন বলেন, "ঘটনার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"

এদিকে, শ্রীবরদীর কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের খামারপাড়া থেকে ফেরার পথে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ইউএনও হাবিবা শারমিনের গাড়িতে হামলা এবং তাঁকে আহত করার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারি কর্তব্যকাজে বাধাদানের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ইউএনও অফিস থেকে আরেকটি মামলা দায়েরের কথা পুলিশকে জানানো হলেও আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা রেকর্ড হয়নি।

শেরপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. শাহজাহান মিয়া জানান, শ্রীবরদীর ইউএনও'র গাড়িতে আক্রমণ ও তাকে আহত করাসহ নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ  থেকে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ইউএনও অফিস থেকেও আরেকটি মামলা দেওয়ার কথা। মামলাটি পেলে সেটিও রেকর্ড করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে নকলার উরফা ইউনিয়নে নির্বাচনী ফল ঘোষণার পরপরই বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগের রেজাউল হক হীরার সমর্থকরা খিচা ও বারমাইসা গ্রামে পরাজিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নূরে আলম তালুকদারের আট সমর্থকের বাড়ি ও দোকানপাটে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে খিচা গ্রামের কামাল, মিজান, হালিম, নেসার ও বজলুলের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া বারমাইসা গ্রামের মজিবরের কাপড়ের দোকান এবং মোজাম্মেল ও ফরহাদের মুদি দোকানে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করা হয়।

নূরে আলম তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, "নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউলে হক হীরার সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে নূরে আলম তালুকদারের অভিযোগ অস্বীকার করে বিজয়ী চেয়ারম্যান রেজাউল হক হীরা বলেন, "আমার কোনো সমর্থক কারো বাড়িঘর বা দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাট করেনি। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। "

এ ব্যাপারে নকলা থানার ওসি মো. গোলাম হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, "নূরে আলম তালুকদারের সমর্থকদের বাড়িঘর কেউ ভাঙচুর করেনি। তবে কে বা কারা লাঠি বা বাঁশ দিয়ে দুয়েকটি আঘাত করেছে বলে শুনেছি। এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 


মন্তব্য