kalerkantho


ইউপি নির্বাচনোত্তর সহিংসতা

ভোলায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ, বাড়িঘরে হামলা, আহত ৫

ভোলা প্রতিনিধি    

১ এপ্রিল, ২০১৬ ১৭:৩৮



ভোলায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ, বাড়িঘরে হামলা, আহত ৫

দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচনের পর ভোলায় নির্বাচনোত্তর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিজয়ী মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মারধর করার খবর পাওয়া গেছে।

পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারারও পাওয়া গেছে অভিযোগ। ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে।

ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘারহাওলা গ্রামের সরদার বাড়ির বশিরের স্ত্রী জয়নব বিবি জানান, বৃহস্পতিবার ইউপি নির্বাচনের পর রাতে বিজয়ী মেম্বার লোকমান হোসেনের নেতৃত্বে তাঁর দলবল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। এ সময় মুকুল, রিয়াজ, নাজনিন, বিথী এবং প্রিয়াংকাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জয়নব বিবি বলেন, "পরাজিত মেম্বার প্রার্থী  আবু তাহেরের পক্ষে নির্বাচনী এজেন্ট হওয়ার কারণে এ হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। " তবে, এ হামলার কথা অস্বীকার করেছেন বিজয়ী মেম্বার লোকমান।

এদিকে, একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আরব আলী জমাদ্দার বাড়ির শারমিন আক্তার জানান, তিনি ওই ওয়ার্ডের পরাজিত মেম্বার প্রার্থী বশির আহম্মেদের পক্ষে নির্বাচনী এজেন্ট থাকার কারণে প্রতিপক্ষ  বিজয়ী মেম্বার আব্দুল বারেকের লোকজন তাঁর ভগ্নিপতি শাহজাহানের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। এতে ওই পুকুরের সব মাছ মরে যাচ্ছে।

তবে, বারেক মেম্বার এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার কোনো  লোকজন শাহজাহানের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেননি। একই ওয়ার্ডের কাঞ্চন মিঝির স্ত্রী হাফিজা খাতুন ও তার ছেলে রুবেল অভিযোগ করে জানান, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বিজয়ী মেম্বার বারেকের লোকজন তাদের বাড়িতে এসে হামলার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তারা পিছু হটে। পরাজিত মেম্বার প্রার্থী বশির আহম্মেদের পক্ষে কাজ করার কারণে বারেক মেম্বারের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলার চেষ্টা  চালায়। পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হাসনাইন আহম্মেদ হাসান অবশ্য তার ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেন।

ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মীর খায়রুল কবির জানান, ভোলা সদরে নির্বাচনোত্তর কোনো হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তবে, সকাল থেকে ইলিশা ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে হামলার চেষ্টা ও হুমকি ধমকির খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল এলাকায় টহল দিচ্ছে।

 


মন্তব্য