kalerkantho

26th march banner

মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ৫

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ১৪:৫৪



মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ৫

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হাজি আলি খান (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছনে।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিপক্ষ তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় উভয় গ্রুপের আরো অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে জাকির চোকদার (৪০) নামে একজনকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও রয়েছে। একপক্ষ বলছে পিটিয়ে হত্যা আর অপর পক্ষ বলছে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুকসুদপুর উপজেলার বর্নি গ্রামের মেহেদী হাসান টিটুল মোল্যা ও লিয়াকত শেখ ওরফে ইয়াদ আলি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় ২০০৫ সাল থেকে উভয় পক্ষের অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এরই জের ধরে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মেহেদী হাসান গ্রুপের লোকজন হাজি আলি খানকে একা পেয়ে ধাওয়া করে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এরই জের ধরে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে।

মেহেদী হাসান টিটুল মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, এলাকার একটি বাড়ির জায়গা দখল করে লিয়াকত শেখ। এতে আমি বাধা দিতে গেলে সে আমাকে এবং আমার লোকজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এই নিয়ে তার সাথে বিরোধ চলে আসছিল। যে ব্যক্তি মারা গেছে তিনি একজন হার্টের রোগী। শুক্রবার সকালে সে মারা গেলে এলাকায় গুজব রটিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমার ভাই আল আমিনকে বাড়ি আসলে মারপিট করে আহত করে। এ ব্যাপারেও আদালতে মামলা রয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

নিহতের ছেলে ওমর আলী মুঠোফোনে জানিয়েছেন, এলাকার দলাদলিতে আমরা একটি পক্ষে পড়েছি। এই কারণে আমার বাবাকে মেহেদি হাসান টিটুলের লোকজন একা পেয়ে মারপিট করে। ফলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। আমার বাবার আগে পরে কোনো রোগ ছিল না। আমি এই হত্যার বিচার দাবি করছি।

অপর গ্ররুপের নেতা লিয়াকত আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের বাড়িতে টিটুলের লোকজন হামলা করতে আসলে নিহত হাজি আলি খান বাধা দেয়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে আজ শুক্রবার তারা হামলা চালায়।

মুকসুদপুর থানার ওসি আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে লাশের বুকে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। শরীরে কাদা মাখানো রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।  


মন্তব্য