kalerkantho


জামালপুরে ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা, নিহত এক

জামালপুর প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ২১:২৯



জামালপুরে ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা, নিহত এক

ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ১০টি এবং জামালপুর সদর উপজেলার ১৫টি ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর, নাংলা, কুলিয়া, নয়ানগর, শ্যামপুর ও চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নে এবং জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ও তিতপল্লা ইউনিয়নে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা বিএনপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে এবং সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

ওইসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ কর্মীরা অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। এসময় দুগ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে একজন নিহত এবং সহিংসতায় শতাধিক ব্যাক্তি আহত হয়েছে। মেলান্দহের শ্যামপুর ইউনিয়নের বালুচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাইরে দুগ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে উত্তর বালুচর গ্রামের রফিকুল ইসলাম(৫০) নিহত হয়েছেন এবং মাহমুদপুরে ৫০জন আহত হয়েছে। তন্মধ্যে গুরুতর আহত আব্দুর রহিম, শহিদ জামান, শফিকুল ইসলাম, ফকির আলী, আনোয়ার হোসেন, ইজ্জত আলী, কুব্বাত আলী, আব্দুর রশিদ ও আব্দুল খালেককে মেলান্দহ এবং জামালপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সহিংসতায় আরও অর্ধশতাধিক ব্যাক্তি আহত হয়েছেন।

মেলান্দহের চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতা মহির উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নের মধ্যেরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরপলিশা উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিনাপাই প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ কর্মীরা তার আনারস প্রতীকের সমর্থক ও কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে এক হাজার পাঁচশ ব্যালট পেপারে নৌকায় সিল দিয়েছে।

মাহমুদপুর ইউনিয়নে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরে আলম তালুকদার রুনু বলেন, তার ইউনিয়নের মির্জা আজম উচ্চ বিদ্যালয়, মাহমুদপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং কাজাইকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র সহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সবকটি ভোটকেন্দ্র থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জোরপূর্বক ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। কাজাইকাটা ভোট কেন্দ্রে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা ১২টি ফাঁকা গুলি চালিয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ কর্মীরা কাজাইকাটা ভোট কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ধানের শীষের ৫০ জন সমর্থককে বেধরক পিটিয়েছে।

এরপর তারা প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের যোগসাজশে নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে।                                         মেলান্দহের নাংলা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল পাশা কালা জানান, আওয়ামী লীগ কর্মীরা তাকে মারধোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে নৌকায় সিল মেরেছে। একই ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী নুরুল হক জঙ্গি জানান, তার ইউনিয়নে সবক’টি ভোটকেন্দ্রই আওয়ামীলীগ কর্মীরা দখল করে ব্যালট পেপারে নৌকায় সিল দেওয়ায় তিনি দুপুর ১২ টায় উপজেলা এবং জেলা বিএনপির নির্দেশে নির্বাচন বর্জন করেছেন।


মন্তব্য