kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ইউপি নির্বাচন

ভোলায় কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, গুলি-বোমা সাংবাদিকসহ গুলিবিদ্ধ দুই

ভোলা প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ২০:৩৭



ভোলায় কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, গুলি-বোমা সাংবাদিকসহ গুলিবিদ্ধ দুই

জালভোটের মহোৎসব, কেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খল পরিবেশ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ, গুলি ও বোমাবাজির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়েছে ভোলার চার উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল চোখে পড়ার মত। কিন্ত বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রে শুরু হয় মেম্বার প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সঙ্গে মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে জালভোট প্রদানসহ এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণ ও বোমাবাজি করে কেন্দ্র দখল করতে গেলে প্রতিপক্ষ মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেয়। এতে মেম্বার প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এতে এনটিভির সাংবাদিক আফজাল হোসেনসহ অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া আহত হন আরো অন্তত ১৫ জন। গুরুতর আহত বাগনআলী, রশিদ মাতাব্বর, তাসনুর বেগম, মাজেদ, তাসলিমা বেগম, কাওসার, জাকির, শাহনাজ বেগম, আমির হোসেন ও রহিজলকে ভোলা সদর হাসপাতাল ও বরিশাল মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থী বিল্লাল ও মাসুদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এ সময় পুলিশের শর্টগানের গুলিতে এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার আফজাল হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।
পুলিশের কনস্টেবল জুলহাস বলেন, তিনি সর্টগান নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় অসাবধানতাবশত তার অজান্তে শর্টগানের গুলি বের হয়ে সাংবাদিক আফজালের বাম পায়ে বিদ্ধ হয়। এতে সাংবাদিক আফজাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার সহকর্মী সাংবাদিকরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসরা তার পা অস্ত্রপচার করে পা থেকে চারটি গুলি বের করে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাঃ মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ওই পুলিশের কনস্টেবল জুলহাসের বিরুদ্ধে তদন্তপর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রে আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান খান ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হক মিঠু চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ও র‌্যাব ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আহত মাসুদ জানান, রাজাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রে আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজান খার কর্মী-সমর্থকরা এক মেম্বারের পক্ষে প্রকাশ্যে সিল মারার জন্য গুলি ও বোমাবাজি করতে করতে কেন্দ্রে ঢুকলে তিনি বাধা দেন। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকেও জানান তিনি। পরে দুই মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। ওই গুলিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের গুলিতে ওই কেন্দ্রের আরো অন্তত ৭ জন আহত হন বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন।  


মন্তব্য