kalerkantho

26th march banner

গণ্ডগোলের কারণে ভোট দিবার পাই নাই

জামালপুর প্রতিনিধি    

৩১ মার্চ, ২০১৬ ২০:৩১



গণ্ডগোলের কারণে ভোট দিবার পাই নাই

 আশা করে ভোট দিবার আইছিলাম। জিন্নাহর লোক কাইজে বাজাইয়া ভোট সব নৌকায় সিল মারতাছে। গুলাগুলিও হইছে। তাই ভোট দিবার পাইলাম না। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় এ কথাগুলো বলেন মেলান্দহের মাহমুদপুর ইউনিয়নের কাজাইকাট গ্রামের সখিনা খাতুন। একই সময় ওই গ্রামের রসুল মামুদ বলেন, চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা আঙ্গরে বাড়ি বাড়ি গিয়া ভোট চাইছে। অনেক পান বিড়ি খাওয়াইছে। আমরা তাগরে ভোট দিবার চাইছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রে গণ্ডগোলের কারণে ভোট দিবার পাই নাই। নৌকা মার্কার লোকজন সকল ভোট সিল মাইরা নিছে।

একই দিন দুপুরে মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলছিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গেলে ওই কেন্দ্রের ভোটার আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি ভোট দিতে নলছিয়া ভোট কেন্দ্রের ভিতরে যেতে চাইলে নৌকার সমর্থকরা তাকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি। তখন তিনি পুলিশের সহযোগীতা চাইলে পুলিশও কোনও প্রকার সহযোগীতা করেনি বলে জানান।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, মেলান্দহের মাহমুদপুর ইউনিয়নের মির্জা আজম উচ্চ বিদ্যালয়, মাহমুদপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং কাজাইকাটা ভোট কেন্দ্র থেকে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে আওয়ামী লীগ কর্মীরা মাহমুদপুরের সকল ভোট কেন্দ্র থেকে বিএনপির সমর্থক ও এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। ওই সময় পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা ১২টি ফাঁকা গুলি চালিয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ কর্মীরা কাজাইকাটা ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষের কমপক্ষে ৫০ জন সমর্থককে বেধড়ক পিটিয়েছে। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত আব্দুর রহিম, শহিদ জামান, শফিকুল ইসলাম, ফকির আলী, আনোয়ার হোসেন, ইজ্জত আলী, কুব্বাত আলী, আব্দুর রশিদ ও আব্দুল খালেককে মেলান্দহ এবং জামালপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এ ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বড় ভাই রুবেল তালুকদার জানান, পুলিশ, আনসার ও ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত সরকারী কর্মচারীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের যোগসাজশে বিএনপি কর্মীদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। এ বিষয়টি মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েও কোনও প্রতিকার পাননি বলেও তিনি জানান।

মাহমুদপুর ইউনিয়নে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরে আলম তালুকদার রুনু বলেন, কাজাইকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র সহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সবকটি ভোট কেন্দ্র থেকে সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা জোরপূর্বক ধানের শীষের এজেন্টদেরকে বের করে দিয়েছে।
এরপর তারা প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও পোর্লি অফিসারদের যোগসাজশে নৌকা প্রতীকে সীল মেরেছে। তাই নিরুপায় বৃহস্পতিবার দুপুরেই মেলান্দহ উপজেলা বিএনপি এবং জামালপুর জেলা বিএনপি নেতাদের নির্দেশে তার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নির্বাচন বর্জন করেছেন।

এব্যাপারে মাহমুদপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, মাহমুদপুরের সবক’টি ভোট কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পরাজয় নিশ্চিত ভেবে বিএনপি প্রার্থী নিজের ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা আড়াল করতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করে নির্বাচন বর্জন করে সরে দাঁড়িয়েছেন।


মন্তব্য