kalerkantho


কেরানীগঞ্জে জালভোট ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন

নৌকা সমর্থকদের গুলিতে প্রাণ গেল ছোট্ট শুভ'র

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ২০:২৫



নৌকা সমর্থকদের গুলিতে প্রাণ গেল ছোট্ট শুভ'র

কেরানীগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো মোঃ শুভ কাজী নামের ১০ বছরের এক স্কুল ছাত্রের। সে উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের মধুরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় কেরানীগঞ্জের ১১ টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলতে থাকে হঠাৎ করে বেলা ১১ টার দিকে হযরতপুর ইউনিয়নের মধুরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একদল যুবক ১৫/২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শুভ মারা যায়। শুভর পিতার নাম হালিম কাজী। তারা ঐ ইউনিয়নের ঢালীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ শুভর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

এদিকে বেলা ১২ টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চরকতুব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা প্রতিকের প্রার্থী মোঃ আবুল বাশারের পক্ষে একদল যুবক কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তাদের বাধা দেয়। পরে তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয় এতে এক আনসার সদস্য আহত হয়। পরবর্তিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গুলি বর্ষণ করে। এতে রনি (২০), মাসুম (৩৫) ও অজ্ঞাতনামা এক ভোটার গুলিবিদ্ধ আহত হয়। আহতদেরকে চিকিৎসার জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় সানরাইজ মডেল একাডেমি নামে একটি কেন্দ্রে সরকারদলীয় লোকজন জালভোট দেয়ার চেষ্টা করলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দেয়। তারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা না মেনে উল্টো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর চড়াও হয়। এতে অজ্ঞাত এক আনসার সদস্যের মাথা ফেটে আহত হয়। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে সহিংতার ঘটনা ঘটলেও ভোট গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

নিহত শুভর চাচা সালাল কাজী জানান, সকালে শুভ তার মা সুমনা বেগমের সাথে ভোটকেন্দ্রে যায়। তার মায়ের ভোট দেয়া শেষ হয়ে গেলে সে আমার সাথে ভোট কেন্দ্রের পাশে রয়ে যায়। বেলা ১১ টার দিকে গলায় নৌকা প্রতীকের কার্ড ঝুলানো একদল যুবক হঠাৎ করে কেন্দ্রের সামনে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। তাদের গুলিতে আমার ভাতিজা শুভ মারা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হযরতপুর ইউনিয়নের ঢালিকান্দী এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, বেলা ১১ টার দিকে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আয়নালের পক্ষে রানা মোল্লা তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মধুরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করে। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বাধা দিলে রানা মোল্লা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এলোপাথারী গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এতে শুভ নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এব্যাপারে হযরতপুর ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নুরুল হক রিপন বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে শিশু শুভ নিহত হওয়ার ঘটনায় আমি পূনরায় নির্বচনের দাবি জানিয়ে ভোট বর্জন করলাম।

একই ইউনিয়নের আওমীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আয়নাল জানান, যে কেন্দ্রটিতে দূর্ঘটনা ঘটেছে সে কেন্দ্রটি বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থী রিপনের বাড়ির কেন্দ্র। দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবৎ তার বাবা আমিনুল হক হিরু ঐ কেন্দ্রে জাল ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তাদের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। এবারও তারা সেখানে জাল ভোট দেয়ার জন্য আগ থেকেই প্রস্তুত নিয়েছিল বলে আমরা ঐ কেন্দ্রে কোনও এজেন্ট দেইনি। গুলিবর্ষনের ঘটনায় আমি কিছু বলতে পারবোনা। যেখানে আমার কোন এজেন্ট নাই সেখানে আবার কেন্দ্র দখল করা যায় কিভাবে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদাউস হোসেন বলেন, শিশু শুভকে যেসব নরপশুরা গুলি করে হত্যা করেছে আমরা তাদেরকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবো।

হযরতপুর ইউনিয়নের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান বলেন, যে কেন্দ্রে গুলিবর্ষনের ঘটনা ঘটেছে আমি সেই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ সোলায়মান কবীরের সাথে কথা বলেছি। ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটার কারণে বন্ধ হওয়ার ২০ মিনিট পরই ভোট গ্রহণ পূনরায় শুরু করা হয়েছে।


মন্তব্য