kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


রৌমারীতে যুবদল কর্মীর ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ২০:০৩



রৌমারীতে যুবদল কর্মীর ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। সকালে মেয়েটি যখন স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক ওই সময়ে মাসুদ রানা (২৭) নামের এক বখাটে ঘরে ঢুকে ঝাপটে ধরে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। মেয়েটির চিৎকারে গ্রামবাসিরা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় লম্পট মাসুদ। আজ বৃহষ্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাইমমারী গ্রামে ওই ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে রৌমারী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

থানা পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাইমমারী গ্রামের এক দিনমজুরের (মাইদুল ইসলাম) কন্যা নির্যাতিত স্কুলছাত্রী। ঘটনার সময়ে মা-বাবা দু’জনেই দিনমজুরি হিসেবে বাড়ির বাইরে কাজ করছিলেন। মেয়েটি বাড়িতে একা ছিল। স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতির সময় হঠাৎ করেই ওই বখাটে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বখাটে মাসুদ মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। নির্যাতিত মেয়েটি যাদুরচর বালিকা উচ্চ বিদ্যায়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে বলে জানা গেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, ওই ঘটনায় বখাটেকে গেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

নির্যাতিত স্কুল ছাত্রীর দরিদ্র বাবা’মা অভিযোগ করেন, ওই বখাটে যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান শরবেশ আলীর সঙ্গে থাকে। সে নাকি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া বখাটে মাসুদের চলাফেরা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে। এরই মধ্যে মানুষের দ্বারা খবর পাঠিয়েছে মামলা না করার জন্য। থানায় অভিযোগ করেছি দেখে তারা হুমকি দিচ্ছে। মামলা না তুললে আমার মেয়ের স্কুলে লেখাপড়া তারা বন্ধ করে দিবে। এ নিয়া খুব ভয়ে আছি আমরা।

অভিযুক্ত বখাটে মাসুদ রানার বাড়ি একই এলাকার ধনারচর সড়ক পাড়া গ্রামে। স্থানীয় যুবদলের একজন সদস্য বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান শরবেশ আলীর ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে কাজ করে। তার পিতার নাম নুরুল ইসলাম। ঘটনার পর থেকে সে আত্মগোপন করে রয়েছে। এ কারণে তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে ইউপি চেয়ারম্যান শরবেশ আলী বলেন, ‘সে আমার সঙ্গে থাকে এটা সত্য। তাই বলে তার অপকর্ম তো আমি সহ্য করতে পারব না। ওই ঘটনার জন্য তাকে শাস্তি পেতেই হবে। ’

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম সাজেুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘অভিযুক্ত বখাটেকে ধরার জন্য পুলিশ তাকে খুঁজছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। ’

 


মন্তব্য