kalerkantho


বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৫৮



বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম

শরীয়তপুরে বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শরীয়তপুর পৌরসভার আঙ্গারিয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে বখাটেরা। স্থানীয়রা আহত ছাত্রীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

এ ঘটনায় পালং মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছে আহত ওই শিক্ষার্থীর মা।

আহত ওই শিক্ষার্থীর পরিবার ও ও পালং থানা সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার আঙ্গারিয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী নানার বাড়িতে থেকে লেখা পড়া করে। গত বছর পহেলা বৈশাখে আঙ্গারিয়া বাজারে বৈশাখী মেলায় শরীয়তপুর জেলা সহরের সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকার মতি বেপারীর ছেলে লিটন বেপারীর সাথে পরিচয় হয় ওই ছাত্রীর।
এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তিন মাস পূর্বে ওই ছাত্রীর পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয় লিটন। এরই মধ্যে লাকি জানতে পারে লিটন আর একটি বিয়ে করেছে এবং তার একটি সন্তান রয়েছে। পরে লাকি লিটনের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এর পর থেকে লিটন ক্ষিপ্ত হয়ে লাকিকে বিভিন্ন সময় স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্যক্ত করতে থাকে।
ওই ছাত্রী লিটনের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় এলাকার হারুন সরদারের ছেলে সোহেল ও আঙ্গারিয়া লতা স্টুডিওর সাগরের সহযোগিতা নেয়।

লিটনের সাথে ওই ছাত্রীর যৌথ তোলা ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিতে শুরু করে। এই সুযোগে লাকির নানা বাড়ি এলাকার সোহেলও ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরণের কু-প্রস্তাব দেয় বলেও অভিযোগ করে।
ওই ছাত্রী আরো জানায় লিটন ও সোহেল এই দুই জনে মিলে আঙ্গারিয়া বাজারের সাগরের স্টুডিও থেকে আপত্তিকর কিছু ছবি বানিয়ে ইতোমধ্যে ওই তাঁর আত্মীয় স্বজন ও এলাকার লোকজনদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। গত মঙ্গলবার রাতে সোহেল, লিটন ও সাগরসহ আরো অজ্ঞাত ৪/৫জন তাঁদের (ছাত্রীর) বাড়ি গিয়ে ইন্টারনেটে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসে। এর পর ওই ছাত্রী ও তার পরিবার এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের জানানোর পর বিষয়টি তারা থানায় জানাতে বলে। বুধবার সন্ধায় ওই ছাত্রী তার নানিকে নিয়ে বাড়ি থেকে থানায় যাওয়ার সময় লিটনের নির্দেশে তার বন্ধু সোহেল তাঁকে (ছাত্রী) থানায় যেতে বাধা দেয়। এ নিয়ে সোহেলের সাথে তাঁর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সোহেল বাড়িতেই কাঠ দিয়ে ছাত্রীর মাথায় আঘাত করে। এতে ওই ছাত্রী মাথায় মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার ছাত্রীর মা বাদী হয়ে লিটন, সোহেল ও সাগরকে আসামী করে পালং মডেল থানায় একটি এজহার দায়ের করেছে।
ওই ছাত্রীর বাবার সাথে প্রায় ১০ বছর আগে থেকে তাঁর মায়ের সম্পর্ক ছিন্ন হয়।

নির্যাতিত শিক্ষার্থী বলে, আমাকে বিয়ে করার কথা বলে এক বছর যাবৎ আমাকে নানা ভাবে কূ-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল স্থানীয় বখাটে লিটন বেপারী। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে মারপিট করে ।

       
ছাত্রীর মা নার্গিস আক্তার জানান, লিটনের অত্যাচরে গত ৩ মাস যাবৎ মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল পরিবার। থানায় অভিযোগ করতে গেলে মাঝ পথ থেকে জোরপূর্বক ধরে এনে আমার মেয়েকে মারধর করে লিটন ও তার সহযোগিরা।

ওই ছাত্রীর প্রেমিক লিটন আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার সাথে তাঁর গভীর প্রেমের সর্ম্পক রয়েছে। আগামী মাসে আমাদের দুজনের বিয়ে হওয়ার কথা। বাড়ি এসে শুনি গোসাইরহাট এলাকার শফিকুল নামের একটি ছেলেকে সে বিয়ে করেছে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় একটি এজহার দায়ের করেছে। মামলা রজু করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


মন্তব্য