kalerkantho


ময়নাতদন্ত রিপোর্ট টেম্পারিংকারীদের বিচারের দাবি মানবাধিকার কমিশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক,কুমিল্লা   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৩৬



ময়নাতদন্ত রিপোর্ট টেম্পারিংকারীদের বিচারের দাবি মানবাধিকার কমিশনের

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ডক্টর মিজানুর রহমান বলেছেন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর হত্যার সাক্ষ্য প্রমাণ টেম্পারিং করার চেষ্টা হয়ে থাকলে তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করেন। সেই সাথে বিচার প্রক্রিয়ার বিধি লঙ্ঘন করে নিহত তনুর পরিবারকে মধ্য রাতে হয়রানি করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহিতা চাইবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সেই সাথে তনুর পরিবারের অনুপস্থিতিতে তনুর ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া, ডিস লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ডক্টর মিজানুর রহমান কুমিল্লা সেনানিবাসে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়ার স্থান পরিদর্শন করে নিহতের বাবা মা ও সেনা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন। এরপর তিনি কুমিল্লা পুলিশ সুপান শাহ আবিদ হোসেনের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে তার পর্যক্ষেণ তুলে ধরেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে করে বলে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে তিনটি পর্যালোচনা বা পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, অতিসতর্কতা যেন কেউ অবলম্বন না করে যাতে অন্যভাবে তাদেরই দুর্বলতা হিসেবে মনে করা যেতে পারে সে রকম কর্মকাণ্ড থেকে যেন প্রত্যেকে বিরত থাকে সে জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এ রকম ধারণা সৃষ্টি হতে পারে কিছু কিছু সাক্ষ্য বা প্রমাণ টেম্পারিং বা ডক্টরিং হয়ে থাকবে পারে। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে যা বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে দিতে পারে বা প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করতে পারে তাহলে যে বা যারা প্লেস অব অকারেন্সে বা সাক্ষ্য প্রমাণকে পরিবর্তন করেছে বা পরিবর্তন করা চেষ্টা করে থাকতে পারে তাদেরকেও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি। ন্যায় বিচারের স্বার্থে এ কাজটি করা উচিত বলে আমরা মনে করি।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়বার যখন ময়নাতদন্ত হয় তখন জনমনে একটি প্রশ্নের উদয় হয় যে কেন এতো দ্রুত কেন দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করতে হলো। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে আমরা মনে করছি দ্বিতীয়বার ময়না তদন্তের প্রয়োজন ছিল। প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট যদিও এখনও উপস্থাপিত হয় নি। কিন্তু প্রাথমিক তথ্য বা রিপোর্ট যেটি রয়েছে তাতে আরো অনেক প্রশ্নের উদ্রেক করে। সেই রিপোর্ট আসলে সঠিক কিনা এটি বিবেচনার দাবি রাখে। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে বাড়তি কোন প্রশ্নের উদ্রেক না করে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সিআইডি এবং বিচার বিভাগের প্রতি আমাদের অনুরোধ যে বা যারা ময়নাতদন্তের রিপোর্টকে কোনও না কোন ভাবে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করে থাকে তাহলে শুধুমাত্র যারা রিপোর্ট প্রনয়ণ করেছেন শুধু তারাই নন যারা ঐ রিপোর্ট প্রনয়ণ করতে সাহস জুগিয়েছে, বাধ্য করেছে বা কোনও না কোনও ভাবে উৎসাহিত করেছেন সকলকেই বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, নিহত তনুর বিপর্যস্ত পরিবারকে হয়রানি করে হয়ে থাকে তাহলে সেটা যদি র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নও হয়ে থাকে তাহলে মানবাধিকার কমিশন মনে করে বিচার প্রক্রিয়ার যে বিধিবদ্ধপন্থা তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা চাইবো।

তিনি বলেন, যে জায়গায় তনুর নিথর দেহ পড়েছিল সে জায়গাটি জঙ্গলের মধ্যে হলেও সে জায়গাটি এখন এতো পরিস্কার অবস্থায় আছে মতে হচ্ছে সেখানে সদ্য কাউকে কবরে শায়িত করা হয়েছে। এটি প্রশ্নে উদ্রেক করে।

তিনি বলেন, যে জায়গাটিতে তনুর দেহ পড়েছিল সে জায়গাটির মাটি যদি তুলে নিয়ে থাকে এবং নতুন মাটি যদি ভরাট করা হয়ে থাকে এর মাধ্যমে অপরাধে অনেক সাক্ষ্য কিন্তু বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে। এটি তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরো জটিল করে ফেলতে পারে। এই আশংকা আমাদের মনে রয়েছে। এর রকম হয়েছে কিনা যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে কেন করেছে? কারা করেছে? কখন করেছে? কিভাবে করেছে? এই প্রশ্নগুলো উত্তর সারা জাতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জানতে চায়।

তিনি বলেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে যারা তদন্তের দায়িত্বে আছেন তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেই সেনানিবাস এলাকা অনেক বিধি নিষেধ রয়েছে সে বিধি নিষেধ যেন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায় সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে আবেদন জানচ্ছি। সিআইডি যেন পূর্ণ স্বাধীনতার তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, তনুর পরিবারের অনুপস্থিতিতে তনুর ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া, ডিস লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যরাতে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে মানসিক নির্যাতন করা প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহিতা চাইবেন ।

নিহত তনুর পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রেখে মানবাধিকার কমিশনকে বলেছে তিনি যেন ন্যায় বিচার নিশ্চিত করেন তাদের এই নিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে।


মন্তব্য