kalerkantho


তনুর পুন:ময়নাতদন্ত : হাতে-পায়ে ও গলার পেছনে আঘাতের চিহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৪৮



তনুর পুন:ময়নাতদন্ত : হাতে-পায়ে ও গলার পেছনে আঘাতের চিহ্ন

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর পুন:ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তে তার হাতে-পায়ে ও গলার পেছনের অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় কুমেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক কামাদা প্রসাদ সাহার নেতৃত্বে এ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এর আগে দুপুরের দিকে জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তনুর লাশ উত্তোলন করা হয়।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি একে এম মনজুর হোসেন জানান, লাশটি ডিকম্পোজ হয়ে গেছে। হাতে-পায়ে ও গলায় রক্ত জমাট বাধা পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় টিউশনি করে বাসায় ফেরার পথে সোহাগী জাহান তনুকে দুর্বৃত্তরা খুন করে তার বাসার অদূরে পাওয়ার হাউস রোডের পাশের একটি জঙ্গলে ফেলে যায়। এ ঘটনার পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মচারী ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে মামলা তদন্ত করেন ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য গত ২৫ মার্চ রাতে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা বিভাগে ন্যস্ত করা হলেও এর কোন কুল কিনারা না হওয়ায় মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে হস্তান্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে ডিএনএ পরীক্ষা, সুরতহাল প্রস্তুতসহ পুনঃময়নাতদন্তের জন্য গত সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি একে এম মনজুর আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম তনুর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে এ হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর আজ বুধবার কলেজছাত্রী তনুর লাশ মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে উত্তোলন করা হয়। প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজগর আলীর উপস্থিতিতে তনুর লাশ উত্তোলন করা হয়।

এরপরে আজ সন্ধ্যায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক কামাদা প্রসাদ সাহার নেতৃত্বে গঠিত একটি টিম তনুর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। কমিটির অপর সদ্যসরা হচ্ছেন- কুমেকের সহযোগী অধ্যাপক ডা. করুনা রানী কর্মকার, প্রভাষক ডা. ওমর ফারুক।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো: শাহ আবিদ হোসেন, সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান, সিআইডির ক্রাইম সিনের এএসপি আবদুস সালামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল, ডিবির ওসি একে এম মনজুর আলমসহ জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুনঃময়নাতদন্ত শেষে তনুর লাশ পুলিশের তত্ত্বাবধানে পুনরায় দাফনের জন্য তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

 


মন্তব্য