kalerkantho


গোপালগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী হওয়ায় হাতুড়িপেটা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি    

৩০ মার্চ, ২০১৬ ২১:১৩



গোপালগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী হওয়ায় হাতুড়িপেটা

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা পরিশোধ করেও হাতুড়ি পেটা থেকে রেহাই পেলেন না বাদল ভদ্র (৩৮) নামের এক কৃষক। চলমান নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাঁর লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে হাতুড়িপেটা করে গুরুতর আহত করেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ওই ইউনিয়নে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উরফি ইউনিয়নে মালোপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার বাদল ভদ্র  ওই গ্রামের বলরাম পোদ্দারের ছেলে ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল গাজীর কর্মী।

গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাদল ভদ্র বলেন, "আজ  বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমি ভূগর্ভস্থ নলকূপ স্থাপন প্রকল্পের জন্য টাকা নিয়ে জেলা শহরের বিএডিসি অফিসে যাচ্ছিলাম। পথে  মানিকহার মালোপাড়া নামক স্থানে রাজ কিশোর বিশ্বাসের নতুন ঘর দেখতে তার বাড়িতে যাই। এ সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মনির গাজীর ছোট ভাই হিজবুল্লাহ গাজীসহ আরো কয়েকজন আমাকে অতর্কিতে মারপিট করে। এ ছাড়া আমার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল গাজীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগ আনে তারা। "

বাদল ভদ্র আরো বলেন, "তারা আমাকে ওই বাড়িতে স্থানীয় দফাদার ও তার লোকজন আটকে রেখে প্রশাসনকে খবর দেয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমাকে পাঁচ  হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এ ঘটনার পর আমি বাড়ি ফেরার পথে মনির গাজী, তার ভাই হিজবুল্লাহ গাজী, কালাম গাজী, সাগর গাজীসহ অর্ধশতাধিক লোক আমাকে ঘিরে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আমি গোপালগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে ওসি আমার অভিযোগ না নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন। বর্তমানে আমি হাসপাতালেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। "

উরফি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল গাজী মুঠোফোনে বলেন, "মনির গাজীর দাপটে আমি নিজেই এলাকা ছাড়া। আমার কর্মী-সমর্থকরা টাকা দিয়ে ভোট কেনার সাহস পাবে কোথায়? নির্বাচন তার পক্ষে নিতে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার কর্মীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। " ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা তাদের পছন্দ না হওয়ায় বাদল ভদ্রকে হাতুড়িপেটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সেলিম রেজা জানিয়েছেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছি। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কামরুল ইসলাম মারপিটের ঘটনা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, "ভ্রাম্যমাণ আদালত শেষ করে আসার পর সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মারপিট করা হয়েছে- এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত উরফি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির গাজী মুঠোফোনে বলেন, "ভ্রাম্যমাণ  আদালত শেষ হওয়ার পর আমি বা আমার কেউ বাদল ভদ্রকে মারপিট করেনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের আগে আমার ছেলেরা তাকে কয়েকটি কিল-ঘুষি মেরেছিল। "

 


মন্তব্য