kalerkantho


মাগুরায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে আটক ৬

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ২০:৩৮



মাগুরায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে আটক ৬

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে মাগুরা শহরের আতর আলী সড়কের সিরাজ মেডিক্যাল হল নামে একটি ওষুধের দোকানে তালা লাগিয়ে দোকানের মালিক- কর্মচারিসহ ছয়জনকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। আজ বুধবার দুপরে তাদের আটক করা হয়।

তবে জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে শর্ত স্বাপেক্ষে থানা থেকে ছাড়া পায় তারা। জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে আশরাফ উজ জামান নামে এক ব্যবসায়ী ওই ওষুধের দোকানটিতে তার ছেলের জন্য ওষুধ কিনতে গেলে তাকে মেয়াদোত্তীর্ণ দুটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরে সে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ দোকান বন্ধ করিয়ে মালিক কর্মচারিদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকার ব্যবসায়ী আশরাফ উজ জামান জানান, তার সাড়ে ৪ বছরের ছেলে রাফিন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শহরের নবজাতক ও শিশু ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাইমক্সিক্লাভ নামে একটি ইনজেকশনের ব্যবস্থাপত্র দেন। যেটি তিনি সিরাজ মেডিক্যাল হল থেকে ক্রয় করেন। এটি নিয়ে নবজাতক ও শিশু ক্লিনিকের নার্স রুবিনাকে দিলে তিনি এটি মেয়াদোত্তীর্ণ বলে জানান। এ সময় তিনি অক্টোবর- ২০১৫ মেয়াদ শেষ হওয়া ওষুধগুলো নিয়ে ওই দোকানে ফিরে আসেন এবং বিষয়টি জানান। কিন্তু দোকানে থাকা ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তাকে দেওয়া প্রথম ইনজেকশনের বদলে আরেকটি মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন দেন।

যার মেয়াদ ছিল ডিসেম্বর-২০১৫। এ সময় তিনি আরেকটি দোকান থেকে ওষুধটি সংগ্রহ করে। পরে আজ বুধবার তিনি সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে তারা কমল চন্দ্র সাহা ও তপন কুমার নামে ২ মালিক, ৪ কর্মচারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ থানায় এসে জেলার সমস্ত দোকানে এ ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অনুসন্ধান এবং তা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ৩ দিনের সময় নেন। পাশাপাশি মুচলেকা দিয়ে দোকান মালিকদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে ওই নবজাতকের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল হাই জানান, নার্সের সতর্কতায় শিশুটি ক্ষতির হাত থেকে বেচে গেছে। তবে এ বিষয়ে সবারই সতর্ক থাকা দরকার। এমনকি ওষুধ কেনার সময় অভিভাবকদের। আর দোকানীকেতো বটেই। কারণ এমন অনেকে ওষুধ কিনতে আসেন যারা লেখাপড়া পর্যন্ত জানেন না।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আজমল হুদা বলেন, অভিযোগকারী এ বিষয়ে কোন মামলা করেনি। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে দোকান মালিক কর্মচারিদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে শর্ত স্বাপেক্ষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নবজাতক রাফিনের পিতা আশরাফ উজ জামান বলেন, ইচ্ছে করেই মামলার জটিলতায় যাইনি। আমার ধারণা অনেক দোকানেই এ ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে অভিযুক্ত দোকান মালিক তপন কুমার ও কমল চন্দ্র সাহা কর্মচারিদের ভুলে এমনটি হয়েছে দাবি করে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন।


মন্তব্য