kalerkantho


মহিষ প্রজনন কেন্দ্রটি মাঝ বরাবর রেললাইন নির্মিত হওয়ায় তা ঝুঁকির মুখ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ২২:০২



 মহিষ প্রজনন কেন্দ্রটি মাঝ বরাবর রেললাইন নির্মিত হওয়ায় তা ঝুঁকির মুখ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়াধীন দেশের একমাত্র মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাগেরহাটে অবস্থিত এ মহিষপ্রজনন খামারটির মধ্যভাগ দিয়ে খুলনা-মংলা রেললাইন স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলায় খামারটি প্রজননের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ মন্ত্রণালয়ের অজ্ঞাতসারে মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটির মাঝ বরাবর অধিগ্রহণকৃত ১১০০ী১৫০ বর্গফুট বা ১ লাখ ৬৫ হাজার বর্গফুট পরিমান জায়গায় রেললাইনটি নির্মিত হলে মহিষের মারাত্মক প্রজনন সমস্যা, অনাকাক্সিক্ষত গর্ভপাত, বিকলাঙ্গ বাচ্চা প্রসবসহ বিভিন্ন প্রতিকুলতার সৃষ্টি হওয়ার আশংকা করছে মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খামারটির ভেতরে রেললাইন স্থাপিত হলে ভেড়ার খামারের ৪ একরসহ মোট ৯ একর জমি কমে যাবে। এতে পশুদের চারণভূমির পরিমানেও সংকট দেখা দেবে। ফলে একমাত্র প্রজননকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশই ব্যহত হবে।
সরকারের প্রজনন খামারটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো- শংকরজাতের মহিষ উৎপাদনের জন্য মুরা ও নীলিজাতের ষাঁড় দ্বারা স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় দেশী মহিষের জাত উন্নয়নের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন ও মাংসবৃদ্ধি করা। বর্তমানে মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ইটালিয়ান মেডিটেরিয়ান মুররা নামক মহিষের সিমেন ব্যবহার করে কৃ্িত্রম প্রজননের ম্যধ্যমে আরও অধিক উৎপাদনশীল বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ১৫ লাখ মহিষ থাকলেও একটি মাদী মহিষ গড়ে প্রতিদিন দুধ দেয় মাত্র ১ লিটার। কিন্তু খামারের শংকরজাতীয় প্রতিটি মহিষ প্রতিদিন দুধ দেয় ১৫ থেকে ২০ লিটার।
আজ মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় দ্বারা বাগেরহাটের মহিষ প্রজনন কেন্দ্রটির ভেতর দিয়ে রেললাইন নির্মাণের ঝুঁকির বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং উভয় মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য আদান প্রদান হয়।
মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ’র সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ সচিব মোঃ মাকসুদুল হাসান খান, যুগ্মসচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, মোঃ কামরুজ্জামান, প্রাণিস¤পদ অধিদপ্তরের ডিজি অজয় কুমার রায়, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শশী কুমার সিংহ, বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি মোঃ আমজাদ হোসেনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রটি জানায়, ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে নির্মিত মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটির ভেতরেই স্থাপিত ৫ একরবিশিষ্ট একটি ভেড়ার খামার এবং ৭৫ একক বিশিষ্ট মহিষ খামারের মাঝখানেই রেলপথটি নির্মিত হচ্ছে। প্রজনন কেন্দ্রে বর্তমানে ৩৭৭টি মহিষ রয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫০ ভাগ ভর্তুকী মূল্যে খামার থেকে কৃষকদের মাঝে ২২৪টি ষাঁড় মহিষ বিতরণ করা হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে আরো ২৮টি ষাঁড় বিতরণের পরিকল্পনা আছে।


মন্তব্য