kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


শেরপুরকে পরিচ্ছন্ন সবুজায়ন শহরের দাবিতে নাগরিক সংলাপ

শেরপুর প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৫১



শেরপুরকে পরিচ্ছন্ন সবুজায়ন শহরের দাবিতে নাগরিক সংলাপ

দেড়শ’ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শহর শেরপুর। কিন্তু দীর্ঘদিনেও পরিকল্পিত নগরায়ন বিশেষ করে পরিবেশ সংরক্ষণে সুষ্ঠু নীতিমালার অভাবে নাগরিক সেবার কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, ফুটপাত হকারমুক্তকরণ, ময়লা-আবর্জনা, ডাস্টবিন-ড্রেনেজ সিস্টেম, গণশৌচাগার ব্যবস্থাপনা উন্নতকরণ বিষয়ে পরিচ্ছন্ন সবুজায়ন শহরের দাবিতে এক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার পৌর টাউন হল মিলানয়তনে নাগরিক প্ল্যাটফরম ‘জনউদ্যোগ’ এর আয়োজনে এ  সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন।

সংলাপের শুরুতেই জনউদ্যোগ আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ‘সবুজায়ন শহর চাই’ শীর্ষক একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করে ৭ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। শহরের খাল-বিল, মুক্ত জলাশয় ভরাট করে অপরিকলিপ্ত নগরায়নে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাস্টারপ্ল্যান করে পরিকল্পিত নগরায়নের দাবি জানানো হয়। দোকানে দোকানে ঝুড়িতে ময়লা ফেলা, শহরে ডাস্টবিনের সংখ্যা বৃদ্ধি, যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ ও পয়:নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট তৈরি, বৃক্ষরোপন ও বিউটিফিকেশন কর্মসূচি গ্রহণসহ শহরে একটি মুক্তমঞ্চ করার দাবি জানানো হয়। পরে অংশগ্রহণকারী নাগরিকরা তাদের বিভিন্ন দুর্ভোগ, সমস্যা ও পরিচ্ছন্ন সবুজ শহর গড়ে তুলতে নানা সুপারিশ ও প্রস্তাব উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি মেয়র লিটন আগামী ৬ মাসের মধ্যে শেরপুরকে ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি ডাস্টবিনের সংখ্যা বাড়ানো, নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী ২০১৯ সালে সার্ধশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে শেরপুর পৌরসভাকে ক্লিন-গ্রিন, আধুনিক, ডিজিটাল শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় খুব শীঘ্রই শহরের নিউমার্কেট এলাকাকে ওয়াইফাই জোন করার ঘোষণা দিয়ে মেয়র লিটন বলেন, পৌরসভার ওয়েবসাইট হালনাগাদ করে একটি ফেইসবুক পেজ খোলা হবে। যাতে নাগরিকরা সেই ফেসবুক পেজে লিখে মতামত জানাতে পারেন। এজন্য তিনি সকল পৌরবাসীর সহায়তা কামনা করে বলেন, নিয়মিত ট্যাক্স, ফি, পানির বিল, মার্কেটের ভাড়াসহ পৌরসভার বিভিন্ন পাওনা পরিশোধ করে পৌরবাসীকে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানান। তিনি এডিপি’র বার্ষিক বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং পৌর কর্মচারীদের বেতন সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানান।

জনউদ্যোগের সদস্য সচিব সাংবাদিক হাকিম বাবুলের সঞ্চালনায় সংলাপে অন্যান্যদের মধ্যে শেরপুর চেম্বারের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব হায়দার আলী, সমাজকর্মী রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, প্যানেল মেয়র হোসনে আরা নাজমা, সাংবাদিক সুশীল মালাকার, পৌর কাউন্সিলর হাবীবুর রহমান, জেলা চালকল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব দুলাল মিয়া, অধ্যাপক শিব শংকর কারুয়া, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা, ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর, হারার সাহা, খেলাঘর সম্পাদক নন্দ সাহা, নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি শামসুল হুদা, শামীম মিয়া বক্তব্য রাখেন।


মন্তব্য