kalerkantho


সিরাজগঞ্জে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি    

২৮ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৪৯



সিরাজগঞ্জে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অর্ধকোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন দরদাতা আজ সোমবার দুপুরে থেকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষের নিকট অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন দপ্তরের ব্যবহারিক কাজে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যমানের যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল সংগ্রহে দুটি প্যাকেজে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। জিওবি অর্থায়নসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ দরপত্র আহ্বান করলেও সিডিউল বিক্রির জন্য সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ও ঢাকার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালকের কার্যালয় নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে রক্ষিত সিলগালা বাক্সে দরপত্র জমাদানে শেষ দিন দরপত্র ২৮ এপ্রিল উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু, সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে রক্ষিত বাক্সটি সিলগালার জন্য আসেননি। পৌনে ১১টার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের সিভিল বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম সিলগালা করতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আসলেও বাক্সেও ভেতর আগে থেকেই দরপত্র রাখা ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কতিপয় ঠিকাদারদের মধ্যে হইচই শুরু হয়। পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম ও অফিসকর্মী শাকিল আহম্মেদ এ সময়ে ঠিকাদারদের তোপের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ঠিকারদারগণ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানালেও এ বিষয়ে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি।

শেষ পর্যন্ত ঠিকাদারদের পক্ষে সিফাত-রিফাত এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. শরিফুল ইসলাম তার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগে জানান, পছন্দের লোকজনকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ নিজেই এ ধরনের কারসাজি করেছেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সিভিল বিভাগের ইনচার্জ শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, "আমি কয়েক দিন আগে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এসে বাক্স রেখে গেছি। আজ সোমবার অধ্যক্ষ সাহেবের নির্দেশ মতো সকাল পৌনে ১১টার দিকে বাক্স সিলগালা করার সময় সেখানে এসে আগে থেকেই দরপত্র জমা দেখতে পাই। বেশ কিছু ঠিকাদার তাদের দরপত্র বাক্সে না ফেলে শেষ পর্যন্ত আমার নিকট জমা দিয়েছেন। তাঁরা আমার নিকট একটি অভিযোগপত্রও জমা দিয়েছেন। "  

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জিয়াউল আহসান তালুকদার বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডার হলেও পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষের পদ্ধতিগত ত্রুটি ও দায়িত্বে অবহেলা ছিল। ঠিকাদাররা এ বিষয়ে অভিযোগ দিলেও আমরা তো আর কর্তৃপক্ষ নই। পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে আমরা বিপাকে পড়েছি। " টেন্ডার প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ হয়েছে এমন দাবি করে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান খান বলেন, "কয়েক দিন আগে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে দরপত্র ফেলার জন্য লোক মারফত তালাবদ্ধ বাক্স দিয়ে এসেছি। সিলগালা নেই, তাতে কোনো সমস্যা নেই। পুলিশের পাশাপাশি আমার লোকজনও সেখানে ছিল। "  

 


মন্তব্য