kalerkantho


ইউপি নির্বাচন

এবার জামায়াত নেতাকে সমর্থনে এমপি বদিকে নিয়ে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৩১



এবার জামায়াত নেতাকে সমর্থনে এমপি বদিকে নিয়ে তোলপাড়

কক্সবাজারের টেকনাফে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী এক জামায়াত নেতাকে স্থানীয় এমপি আবদুর রহমান বদির সমর্থনের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। এমনকি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরপর দুই বারের নির্বাচিত একজন দলীয় এমপি হয়েও দলীয় প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে একজন স্বাধীনতা বিরোধী চেতনার প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ডকেও অবহিত করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, এমপি বদির সমর্থিত জামায়াত নেতা এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অপরটি হ্নীলা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের এইচ,কে আনোয়ার এগিয়ে রয়েছেন। আজ রবিবার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) সংসদীয় আসনের এমপি আবদুর রহমান বদির এ রকম বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ   কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ কর্মীদের সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফরিদুল আলমের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আজ সকালে বিজিবি সদস্যদের হাতে আটক হন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয়। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতিকে আটকের খবর প্রচারের সাথে সাথেই টেকনাফ থেকে চকরিয়া পর্যন্ত কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-টেকনাফ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ কর্মীরা ব্যরিকেড সৃষ্টি করে। এ সময় ঘণ্টা দেড়েক সময় ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মীদের অভিযোগ, এমপি বদির ষড়যন্ত্রের কারণেই জেলা ছাত্রলীগ সভাপতিকে আটক করা হয়। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে আজ রবিবার বিকালে দলীয় অফিসে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয় সাংবাদিকদের জানান, এমপি বদি আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিজিবি সদস্যদের দিয়ে আটকিয়েছিলেন। কেননা তিনি (এমপি বদি) জামায়াত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারীকে জিতানোর জন্য কাজ করছিলেন। আর আমি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফরিদুল আলমের পক্ষে গিয়েছিলাম।

ছাত্রলীগ সভাপতি আরো বলেন, গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত টেকনাফের অপর ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও এমপি বদি দলীয় প্রার্থীর বাইরে সমর্থন দিয়ে তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন।

এ বিষয়ে আজ সন্ধ্যায় টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক দলীয় এমপি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের দলীয় এমপি বদি আজ (গতকাল) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জামায়াত নেতা এবং বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার প্রধান হোতা নুর আহমদ আনোয়ারীকে সমর্থন দিয়েছেন। একথা বলতেও লজ্জা বোধ করছি।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক হারুন সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ অনুষ্ঠিত আমাদের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের কর্মী পেলেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বেদম প্রহার করেছে। এমনকি আমরা নৌকা প্রতীকধারীরা আজকের দিনটি বড় অসহায় বোধ করেছি। এর নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করা দরকার।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠকে বলেন, টেকনাফের আবদুর রহমান বদি এমপি এর আগে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে আজকের নির্বাচনে একদম প্রকাশ্যে জামায়াত নেতার পক্ষে কাজ করে তিনি আরেক ‘কলংকের ইতিহাস’ স্থাপন করেছেন। ’ তিনি আরো বলেন, যেহেতু বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর তাই দলীয় হাইকমান্ডকে জানানো হয়েছে।

তবে এমপি আবদুর রহমান বদি তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলছেন। বাস্তবে তিনি কারো পক্ষেই সমর্থন করেননি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। তাঁর বিরুদ্ধে অহেতুক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ কালের কণ্ঠকে জানান, আজকের দুই ইউনিয়নের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে কোথাও কোন গণ্ডগোল হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মার্চ প্রথম দফায় জেলার ১৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৭টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠি হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতে করা মামলার কারণে টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পিছিয়ে আজ ২৭ মার্চ ধার্য করা হয়।

 


মন্তব্য