kalerkantho


নীলফামারীর চওড়া বড়গাছা ইউপি নির্বাচন

কর্মী মারধরের ঘটনায় দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ২০:২৬



কর্মী মারধরের ঘটনায় দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নীলফামারী সদর উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নে আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুজন কর্মীকে মারধরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তার নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী জুলফিকার আলী (নৌকা) অভিযোগ করে বলেন, আমার নির্বাচনী কর্মী বুধারু রায়কে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারফ হোসেনের (আনারস) লোকজন গত শনিবার রাত ১১টার দিকে ইউনিয়নের নতিবাড়ি চৌরঙ্গী বাজারে কুপিয়ে জখম করেছে। এ সময় সেখানে আমার নির্বাচনী কার্যালয়টিও ভাঙচুর করে তারা। বুধারুকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ডান পায়ের উরুতে ক্ষত স্থানে ২২টি সেলাই লেগেছে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারফ হোসেন(আনারস) অভিযোগ করে বলেন, আমার কর্মী চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রশিদুল ইসলামকে গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে নতিবাড়ি চৌরঙ্গী এলাকায় বেদম মারধর করেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী জুলফিকার আলী। আঘাতে তার (রশিদুল) বুকে ব্যাথা হলে খবর পেয়ে আমি তাকে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করাই।

তিনি আরো বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চওড়া বাজারে আমার নির্বাচনী পথসভা ছিল। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীও একই সময়ে পথসভা আহ্বান করায় পুলিশ দুই পক্ষের পথসভা বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে কথা বলতে রাতেই আমি নীলফামারী সদর থানায় যাই। এ সময় রশিদুল আমার সঙ্গে ছিলেন। থানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে জুলফিকার আলী চৌরঙ্গী বাজারে তাকে মারধর করেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে বুধারুকে দিয়ে নাটক সাজানো হয়েছে। অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ সত্য নয়।

এদিকে রশিদুলকে মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করে জুলফিকার আলী বলেন, আমার কর্মী বুধারুকে কুপিয়ে জখম করে অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা রশিদুলকে হাসপাতালে ভর্তি করে নাটক করছেন।

আজ রবিবার বিকেলে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি বুধারু রায়ের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য মোশাররফ হোসেনের লোকজন আমাকে কুপিয়েছে। রাত ২টার দিকে আমি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।

একই ওয়ার্ডের ছয় নম্বর বিছানায় ভর্তি ছিলেন রশিদুল ইসলাম। এ সময় ওই বিছানায় রশিদুল ইসলামের ভাগ্নে হাসানুর রহমানকে ঘুমাতে দেখা গেছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমার মামা রশিদুল অসুস্থ্য, তার বুকে ব্যথা। তিনি কোথায় গেছেন জানি না। অনেক সময় অপেক্ষা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে হাসপাতালের নথিতে পুলিশ কেসে দেখা গেছে, রশিদুল ইসলাম ভর্তি হয়েছেন গত শনিবার রাত ৩টায় এবং বুধারু রায় রাত ২টায়।

এ ব্যাপারে নীলফামারী সদর থানার ওসি মো. শাহজাহান পাশা বলেন, রশিদুলের পক্ষে অভিযোগ পেয়েছি, বুধারুর অভিযোগ এখনো পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 


মন্তব্য