kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বরগুনা পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সোহেল হাফিজ, বরগুনা   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৩৩



বরগুনা পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পেশাগত জীবনের বাইরেও যে আরও একটি জীবন থাকে, শত ব্যস্ততা আর নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও কত যে কী করার আছে, তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন একজন বিজয় বসাক। চাকরিটা তাঁর পুলিশের। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই টানটান ব্যস্ততা তাঁর। জেলার প্রায় দশ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় নিয়োজিত শতশত পুলিশের খবরদারির গুরু দায়িত্ব তাঁর একার মাথায়। তারপরেও কেবল অফুরাণ ইচ্ছে শক্তির বলে নানামূখী সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি এখন দৃষ্টান্ত। কতিপয় পুলিশের অসৎ কর্মকাণ্ডে যখন বিরুপ ধারণা দেশবাসীর, ঠিক তখন  দেশাত্মবোধের চেতানায় সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক নজর কেড়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের।

পুলিশ লাইফ ব্লাড ব্যাংক :
বরগুনা জেলার প্রায় দশ লাখ মানুষের জন্য একটি মাত্র জেনারেল হাসপাতাল। নজিরবিহীন চিকৎসক সংকটের পাশাপাশি এখানে রয়েছে জরুরি রক্তের সংকট। নিভৃত গ্রাম থেকে আসা অধিকাংশ রোগীদের চিকিৎসা সেবা পেতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যেসব ধকল পার হতে হয় তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সংকট এটি। জরুরি প্রয়োজনে মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে রক্তদানকারী উল্লেখযোগ্য কোন সংগঠনও নেই  বরগুনায়। প্রত্যন্ত জনপদ থেকে আসা দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের রোগীদের এ সমস্যা নিরসনে পুলিশ সুপার বিজয় বসাক তার পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায় বরগুনায় স্থাপন করেন ‘পুলিশ লাইফ ব্লাড ব্যাংক’। জেলার ছয়শতাধিক পুলিশ সদস্যের রক্তের গ্রুপ এবং একাধিক জরুরী মোবাইল নম্বর দিয়ে লিফলেট ছপিয়ে তা বিতরণ করেছেন তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষের জরুরি প্রয়োজনে সক্রিয় এখন বরগুনার ‘পুলিশ লাইফ ব্লাড ব্যাংক’।

ইভটিজিং প্রতিরোধ ও বৃক্ষ রোপণ অভিযান :
ইভ টিজিং প্রতিরোধে স্কুলে স্কুলে গিয়ে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে সকল শিক্ষার্থীদের সরাসরি ফোন করে তথ্য জানানোর অনুরোধ জানান পুলিশ সুপার বিজয় বসাক। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নবীণ শিক্ষার্থীদের বৃক্ষ রোপনে উদ্বুদ্ধ করতে স্কুলে স্কুলে বৃক্ষরোপন অভিযান বিষয়ক সভা পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের একটি নিয়মিত কাজ। এ পর্যন্ত তিনি বরগুনা সরকারী কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বহু স্কুলে তিনি এ সভার আয়োজন করেন। সেসব সভার মাধ্যমে ইভ টিজিং প্রতিরোধে করনীয় বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার বৃক্ষচারা বিতরণ করেছেন তিনি।

নারী পুলিশের প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা :
নারী পুলিশ ও পুলিশ পরিবারের প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতায় পুলিশ সুপার বিজয় বসাক নিজ উদ্যোগে বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবা সংগঠন মেরী স্টোপসের সহযোগিতায় পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজন করেন প্রজনন স্বাস্থসেবা বিষয়ক কর্মশালা। কর্মশালায় বরগুনা জেলায় কর্মরত সকল নারী পুলিশসহ পুলিশ পরিবারের নারী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের একাধিক নারী চিকিৎসক এবং মেরিস্টোপস ক্লিনিকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। কর্মশালায় বিজয়বসাক ঘোষণা দেন নারী আসামীদের জন্যে জেল হাজতে পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে সেনিটারী ন্যাপকিন সরবরাহের জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে মীঘ্রই তা বাস্তবায়ন করবেন তিনি।     

বিনে পয়সায় পুলিশের চাকরি :
বিনে পয়সায় চাকরি! সে যেন আকাশ কুসুম ব্যাপার। তাও আবার পুলিশের চাকরি? হ্যা, সম্প্রতি শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে বরগুনায় পুলিশ কনস্টবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তার অধিনে কর্মরত সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে দফায়, দফায় সভা করেছেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক। টাকা পয়সা তো দূরের কথা কারও অনুরোধও তিনি পরোয়া করেননি এতটুকু। ফলে বরগুনা জেলার অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিনে পয়সায় চাকরি হয়েছে এবার।      

বিআরটিএ অফিস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে :
বরগুনায় বিআরটিএর অফিস না থাকায় সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী মোটর সাইকেল নিবন্ধন করতে বরগুনার সকল মোটর সাইকেল মালিকদের ৫০ কিঃ মিঃ দূরের অন্য জেলা পটুয়াখালী গিয়ে নানারকম ভোগান্তির শিকার হতে হত। এতে মোটর সাইকেল নিবন্ধনের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে সাধারণ মালিকরা। ফলে বাড়তি চাপ নিতে হয় পুলিশ বাহিনীকে। বিষয়টি ভাবনায় নিয়ে বরগুনা জেলায় বিআরটিএর অফিস স্থাপনের জন্য স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে করনীয় বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ঢাকাস্থ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক। তার একান্ত এ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে বরগুনায় বিআরটিএর অফিস স্থাপনের বিষয়টি এখন চুড়ান্ত পর্যায়ে। এছাড়া বরগুনার বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনেও স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে ব্যক্তি প্রচেষ্টায় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কৃর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক।

ওপেন হাউজ ডে :
দশ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় মাত্র ছয়শত পুলিশ পর্যাপ্ত নয়। রাষ্ট্রের নানা সীমাবদ্ধতার বিষয় ভাবনায় রেখে জেলার বিভিন্ন থানায় ‘ওপেন হাউস ডের’ আয়োজন করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে মাদক অপরাধসহ সকল প্রকার অপরাধ দমনে করনীয় বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা করেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক। এসব সভায় সরাসরি ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও মতামত নেন তিনি। পরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত সেসব সমস্যা সমাধানে নির্দেশ দিয়ে তিনি তা নিয়মিত মনিটরিং করেন।    

গ্রাম পুলিশ উন্নয়ন ও কমিউনিটি পুলিশিং :
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিনে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ১০ থেকে ১২ জন গ্রাম পুলিশ নিযুক্ত রয়েছে। বরগুনা জেলার ৪২ টি ইউনিয়ন পরিষদে সে হিসেবে প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রাম পুলিশ রয়েছে। এসব গ্রামপুলিশকে আরও বেশী দায়িত্বসচেতন ও দক্ষ করে গড়ে তোলা গেলে তৃণমূলের সাধারণ জনগনের জানমালের নিরাপত্তায় আরও ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে। এমন ভাবনা নিয়ে গ্রামপুলিশদের আরও দক্ষ ও সেবা প্রদানে আগ্রহী করে তুলতে এসব গ্রাম পুলিশদের সাথে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক। পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনে পালনে তাদের আগ্রহী করে তুলতে তিনি ঘোষনা করেছেন একাধিক পুরুস্কারের। এছাড়া স্থানীয় সুশীল সমাজকে সাথে নিয়ে পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বরগুনার কমিউনিটি পুলিশিং কার্য্যক্রমকে গতিশীল করেছেন বিগত যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশী। স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে মাদক অপরাধ থেকে শুরু করে নারী নির্যাতন এবং ইভ টিজিং প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বরগুনার কমিউনিটি পুলিশিং।

চন্দনতলার নির্যাতিতদের পাশে :
স্থানীয় বখাটে ও প্রভাবশারীদের চক্রান্তে নিজেদের বসত ভিটা ছেড়ে অন্যত্র উদ্বাস্তু হতে বাধ্য হয়েছিল বরগুনার তালতলী উপজেলার চন্দনতলা গ্রামের ১৪টি সংখ্যা লঘু পরিবারের। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বরগুনার তৎকালীন কৃতি পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলামের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেসব নির্যাতিত সংখ্যালঘু পরিবারকে নিজ ভিটায় পূণর্বাসন করা হয়। এ মহৎ উদ্যোগকে সম্মান জানিয়ে বরগুনায় যোগদানের পর থেকেই পুলিশ সুপার বিজয় বসাক নিয়মিত খোঁজ খবর রাখতে থাকেন সেসব পরিবারের। সম্প্রতি নিজ উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ঘনিষ্ঠজনদের সাথে যোগাযোগ করে সেসব পরিবারের জন্য একটি পাওয়ার টিলার, ১৪টি সার প্রয়োগ যন্ত্র ও ১৪টি  আগাছা নিরানী যন্ত্রসহ ৩ ধরনের কৃষি সামগ্রী প্রদানের পাশাপাশি তাদের জীবীকার উন্নয়নে নানামূখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বিজয় বসাক।

পেশাগত দক্ষতায় এগিয়ে :
শুধু মানবিক গুনাবলীর দিক দিয়েই নয়, পেশাগত দক্ষতায়ও তিনি এগিয়ে রয়েছেন অনেকদূর। পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট পুলিশ ম্যাডেল (পিপিএম) এবং ২০১২ সালে তিনি অর্জণ করেন আইজি ব্যাচ। বরগুনায় যোগদানের পর থেকেই বরগুনার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রেখেছেন তিনি শক্ত হাতে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশাত্মবোধকে লালন করে তিনি বরগুনাকে দেখেছেন প্রিয় মাতৃভূমির একটি অংশ হিসেবে। দলমত নির্বিশেষে তিনি সমান চোখে দেখেছেন সকলকে। অপরাধী সে যে দলেরই হোক না কেন তার সাথে কোন আপোষ নেই, পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের এমন কঠোর দৃষ্টিভঙ্গীর ফলস্বরূপ বরগুনার আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি এখন চোখে পড়ার মত। পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের নেতৃত্বে বরগুনার তালতলীতে শিশু রবিউল হত্যার ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রধান আসামী মিরাজকে গ্রেপ্তার করে ২১ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয় পুলিশ। এছাড়া পুলিশ সুপার বিজয়বসাকের নেতৃত্বে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে বরগুনার কেওড়াবুনিয়া এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ব্র্যাকের ছিনতাই হওয়া নগদ অর্থসহ ঘটনার তিন দিনের মধ্যে তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বরগুনা থানার পুলিশ। এছাড়া পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের বরগুনায় যোগদানের পর থেকেই নারী নির্যাতন ও হত্যাসহ সকলপ্রকার অপরাধের পরিমান বিগত যেকোন সময়ের তুলনায় অনেক কম বলে সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে।

অফিস টাইমে লাঞ্চ করেন না বিজয় :
অফিস টাইমের মধ্যে একঘন্টা লাঞ্চ বিরতী নেয়ার কথা থাকলেও তা করেন না বিজয় বসাক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, দূর দূরান্ত থেকে অনেক ভুক্তভোগী পরিবার আসেন তার সাথে দেখা করতে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার সাক্ষাৎ না পেয়ে যদি কেউ ফিরে যান সেই শঙ্কায় দুপুরের লাঞ্চ করেন না বিজয় বসাক। বিকেল ৫টায় বাসায় ফিরে লাঞ্চ করে আবারও অফিসে আসেন তিনি। অধিকাংশ দিনই তিনি সন্ধ্যার পরেও অফিস করেন।

বিদ্যাপ্রিয় পুলিশ সুপার :
ব্যক্তি জীবনে একজন ভাল স্পোর্টস ম্যান বিজয় বসাক। অবসরের একটি বড় সময় কাটে তার বই পড়ে। কবিতা আবৃত্তিতেও রয়েছে তার সমান পদচারণা। স্থানীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও রয়েছে তার সমান অংশগ্রহন। দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিজয় বসাক। নিজ প্রচেষ্টায় বরগুনা জেলা পুলিশের উদ্যোগে প্রতিবছর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার আয়োজন করে তাদের হাতে নানাবিধ পুরুস্কার তুলে দেন তিনি। বরগুনা পেশাগত দায়িত্বপালনের পাশাপাশি একজন মানুষ হিসেবে সবসময় গরীব দুঃখী ও অসহায় শিক্ষার্থীসহ সবধরণের মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক। বরগুনায় সম্প্রতী পক্ষাঘাতগ্রস্থ বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী মোঃ মোশাররফ হোসেন কনুর চিকিৎসা সেবায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের সাথে একাত্ব হয়ে শিল্পী কনুর পাশে দাড়িয়েছেন তিনি। শুধু শিল্পী কনুই নয়, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অতি সঙ্গোপনে অসহায় অনেক মানুষের জন্য সামর্থ অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক।

ব্যক্তি জীবনে বিজয় বসাক :
নিজের বাড়ি এমনকি অফিসের ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়েও বিজয় বসাকের রয়েছে সূচিবাই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার যোগাযোগ করে নিজ প্রচেষ্টায় বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ভবন এবং এর ইন্টেরিয়র ডিজাইনেও আকর্ষনীয় পরিবর্তন এনেছেন তিনি। বাংলাদেশের যেকোন জেলার তুলনায় বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয় এখন অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন। ব্যক্তি জীবনের কথা বলতে গিয়ে বিজয় বসাক বলেন, দিনাজপুর জেলার অধিবাসী তিনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি চাকরি করেছেন ফরিদপুর, নরসিংদি এবং সুনামগঞ্জ জেলায়। পারিবারিক জীবনে এক মেয়ে ও এক ছেলের বাবা উল্লেখ করে বিজয় বসাক বলেন, ছেলে মেয়েদের সুষ্ঠুু বিকাশ ও সঠিক পরিচর্যার জন্যে পরিবারের সবাইকে তিনি সবসময় সাথে রাখার চেষ্টা করেন। বর্তমানেও তার স্ত্রী সন্তান তার সাথে বরগুনায়ই অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

ব্যক্তিগত ভাবনার কথা বলতে গিয়ে বিজয় বসাক আরও বলেন, ‘হিন্দু মুসলিম নয়, আমি মানবতায় বিশ্বাসী। লালন দর্শনের অনুসারী, মানবতার একজন সৈনিক হিসেবে আমার কাছে ধর্মের অবস্থান একেবারেই অন্তর্নিহিত। আমি নারী স্বাধিনতায় বিশ্বাসী, আমি বিশ্বাসী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। এই বিশ্বাসের বাইরে আমি কোনদিন আপোস করিনি, করতেও পারবো না। ’  বিজয় বসাক আরও বলেন, ‘কারও একার পক্ষে সব কাজ করে ফেলা সম্ভব নয়। প্রতিটি মানুষ যদি সারা দিনে মাত্র একটি ভাল কাজ করে তবে একদিনে সারা দেশে ষোল কোটি ভাল কাজ হবে। এমন একসময় আসবে যে তখন কোন ভাল কাজই আর বাকী থাকবে না। তিনি বলেন, আসুন প্রতিদিন না পারলেও অন্তত সপ্তাহে একটি, তাও না পারলে অন্তত সারা মাসে একটি ভাল কাজ করার চেষ্টা করি। তবেই এ দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। ’


মন্তব্য