kalerkantho


রাজীবপুরে নির্বাচনী সহিংসতা

ছাত্রলীগ নেতার আঙুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি    

২৬ মার্চ, ২০১৬ ১৪:১১



ছাত্রলীগ নেতার আঙুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরের কোদালকাটি বাজারে তোতা মিয়া নামে এক মেম্বার প্রার্থীর ভাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টুলু মিয়ার (২২) বাম হাতের আঙুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভোট চাওয়ায় একই ওয়ার্ডের অন্য মেম্বার প্রার্থী পাপু মিয়ার দুই ছেলে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কোদালকাটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে আহত টুলু মিয়ার ভাই শাহাদত হোসেন বাদী হয়ে রাজীবপুর থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৩০ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই মামলা রেকর্ড করে লাল মিয়া (২৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঝে চরম উত্তেজনা রিরাজ করছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে ঘটনাটি দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের হলেও থানায় আসামি করা হয়েছে বিএনপির লোকজনদের বিরুদ্ধে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে বিএনপি নেতাদের মদদে ওই ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, কোদালকাটি ইউনিয়নের সাজাই খয়রাত মেম্বার পাড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টি সমর্থক পাপু মিয়া (ফুটবল প্রতীক) এবং কোদালকাটি ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তোতা মিয়া (মোড়ক প্রতীক) সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঘটনার দিন তোতা মিয়ার ভাই ছাত্রলীগ নেতা টুলু মিয়ার তার ভাইয়ের পক্ষে ও নৌকা মার্কায় ভোট চাচ্ছিলেন। এ সময় মেম্বার প্রার্থী পাপু মিয়ার দুই ছেলে শাহীনুর রহমান ও শাহজাদা মিয়া রামদা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে টুলু মিয়ার বাম হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া হয়েছে। শাহীনুর ও শাহজাদা দুজনই ছাত্রদলের সদস্য বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে কোদালকাটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হুমায়ুন কবির ছক্কু অভিযোগ করে বলেন, "ঘটনার আগ মুহূর্তে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএনপি নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এরপরই ছাত্রদলের দুই কর্মী ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলা করে। এ ঘটনা পরিকল্পিত এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত রয়েছে। "

অপরদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান জানান, ঘটনাটি দুই মেম্বার প্রার্থীর নিজেদের মধ্যে ঘটেছে। অথচ বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে অন্যায়ভাবে বিএনপির নেতাকর্মী ও প্রার্থীকে জড়ানো হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাঁচ বিএনপিকর্মী ও প্রার্থীর নাম জড়ানো হয়েছে। যাতে নির্বাচনী মাঠে আমরা না থাকতে পারি। রাজীবপুর থানার ওসি প্রীতুষ কুমার জানান, ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 


মন্তব্য