kalerkantho


বিক্ষোভে অচল কুমিল্লা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা    

২৫ মার্চ, ২০১৬ ২১:১৭



বিক্ষোভে অচল কুমিল্লা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও সংস্কৃতিকর্মী সোহাগী জাহান তনু  হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে আজ শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে কুমিল্লা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে  বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ।

এ সময় তনু হত্যার বিচার  দাবিতে মুখরিত ছিল কুমিল্লার প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরসহ আশপাশের এলাকা। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ চলাকালে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয়।  

কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর, বাদুরতলা রোড, লিবার্টি মোড়, মনোহরপুর, নিউ মার্কেট রোড, লাকসাম রোড, সালাউদ্দিন মোড়, নজরুল এভিনিউ রোড, ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে অবস্থান করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলে, দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা জানায়, তনু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবে না। তাদের একটাই দাবি অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হোক। স্বাধীনতা দিবসে আসামিদের গ্রেপ্তার করে ঘোষণা দেওয়া হউক, অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে।

আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সহপাঠীরা মিছিল নিয়ে নগরীর কান্দিরপাড়ে এসে জমা হয়।

তনু হত্যার বিচার দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে কান্দিরপাড় এলাকা। শিক্ষার্থীরা ব্যানার, প্লাকার্ড, পোস্টার হাতে তনু হত্যার বিচার দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করে। এ সময় তারা সড়কের উপর ড্রাম ফেলে, শুয়ে-বসে অবস্থান নেয়। এতে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ থাকে।  

আজ শুক্রবার যেসব শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয় সেগুলো হলো ভিক্টোরিয়া কলেজ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ এবং সরকারি মহিলা কলেজ। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও পথশিশু, রোটারি ক্লাব, রাজপথে প্রতিবাদী কণ্ঠ, জাগ্রত জনতার প্রতিবাদী মঞ্চ, ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার এবং সামাজিক সংগঠন শেডো'র কর্মীরা, সাধারণ শিক্ষার্থী, সেন্টার ফর হিউম্যান অ্যাসিসটেন্ট ফাউন্ডেশন, রোটার‍্যাক্ট'র নেতৃবৃন্দ।

তনুর সহপাঠীরা জানায়, প্রশাসন যদি তনু হত্যাকারীরে গ্রেপ্তার না করে নীরব ভূমিকা পালন করে তাহলে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে ভিক্টোরিয়া কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে আরো কঠিন কর্মসূচির মাধ্যমে বিচারের দাবি জানানো। তারা বলেন, পুলিশ প্রশাসনের নীরব ভূমিকা তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।

এদিকে, কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, ডিজিএফআইয়ের ডিজি সাজ্জাদ হোসেন, বিজিবির কমান্ডার লে. কর্নেল মোখলেসুর রহমান, র‍্যাব ১১ এর ক্রাইম প্রিভেনশন কম্পানির কমান্ডার, এনএসআইয়ের জেনারেল ডিরেক্টর মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কুমিলস্না জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল সকলের সহযোগিতা চেয়ে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "তনু হত্যার বিষয়ে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো দরকার। আমরা সকলের সহযোগিতা চাই। " পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, তনু হত্যার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু না জানা পর্যন্ত  আমরা কিছু বলতে পারছি না। "
 

 


মন্তব্য