kalerkantho


নারীসহ আহত ২৫

ভোলায় ইউপি সদস্য প্রার্থীর বাড়িতে হামলা

ভোলা প্রতিনিধি    

২৫ মার্চ, ২০১৬ ২০:৪৪



ভোলায় ইউপি সদস্য প্রার্থীর বাড়িতে হামলা

প্রথম দফা ইউপি নির্বাচন শেষ হতে না হতে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলা। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোলায় এক মেম্বর প্রার্থীর বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এবং আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবর্ষণ ও বোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মেম্বর প্রার্থী ও নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত ১২ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের সামনেই গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর মনসা গ্রামে প্রতিপক্ষ মেম্বর প্রার্থীর নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মেম্বর প্রার্থীকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার বিচার দাবি করে এবং ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ওসি বশিরের অপসারণের দাবিতে আজ শুক্রবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে রাজাপুর ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ।    

আজ শুক্রবার দুপুরে ভোলা শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর মনসা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামের শান্তিরহাট এলাকায় ভোলা সদর মডেল থানার এসআই মনিরের নেতৃত্বে ছয়জন পুলিশ সদস্য সেখানে অবস্থান করছেন। শান্তিরহাটের পাশেই দেখা গেল একটি টিনের ব্যবসায়ী দোকান, একটি কাপড়ের দোকান ও একটি কীটনাশকের দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের দৃশ্য। আওয়ামী লীগ কার্যালয়েও রয়েছে হামলার চিহ্ন। স্থানীয়রা জানায়, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী মোতাছিন রাড়ীর এ তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও তাঁর বাড়িতে এবং আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষ মেম্বর প্রার্থী মিলন ও তার লোকজন।  
এদিকে, সন্ত্রাসী হামলার বিচার দাবি করে এবং ইলিশা পুলিশ তদন্ত  কেন্দ্রের ওসি বশিরের অপসারণের দাবিতে আজ শুক্রবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে রাজাপুর ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান মানববন্ধনে তাঁর  বক্তব্যে এসআই বশিরের অপসারণ দাবি করেন।

ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মীর খায়রুখ কবির জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেম্বর প্রার্থী মোতাছিন রাড়ী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিলনকে প্রধান আসামি  করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত বশিরের কর্তব্যে অবহেলার বিষয়ে ওসি বলেন, পুলিশ এখন নির্বাচন  কমিশনের অধীনে রয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তবে, এসআই বশিরকে সরিয়ে তার স্থলে আবুল বশারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।                                  

 


মন্তব্য