kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


রানা প্লাজা ধসের ৩৫ মাস

২৪ এপ্রিল কারাখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)    

২৫ মার্চ, ২০১৬ ১৮:১৬



২৪ এপ্রিল কারাখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি

২৪ এপ্রিলকে শ্রমিক নিরাপত্তা ও শোক দিবস হিসেবে পালন, সব কারাখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং ভবন মালিক সোহেল রানা ও অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাসহ সব দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের স্বজনরা। রানা প্লাজা ধসের ৩৫ মাস উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকেলে সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি রানা প্লাজা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।

গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি রানা প্লাজা শাখার সমন্বয়ক সিরাজ ফকিরের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শামা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দীপক রায়, কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদ রানা বাবলু এবং রানা প্লাজা শাখার সদস্য সচিব আলম মাতব্বর। এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহত শ্রমিক রাজীবের বাবা সত্যজিৎ দাস, আহত শ্রমিক রূপালী, নিহত শ্রমিক ফজলে রাব্বির মা রাহেলা বেগমসহ শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, কেন ফাটলধরা ভবনে শ্রমিকরা ঢুকতে বাধ্য হলেন আর লাশ অথবা আধমরা হয়ে বের হলেন- সে কথা তারা ভোলেননি। তাঁরা শ্রম হত্যা বন্ধ, কার্যকর শিল্পবান্ধব পরিবেশ, শিল্পে সুষ্ঠু নজরদারি, দক্ষতা ও উৎপাদন বৃদ্ধি তথা শিল্পের সার্বিক উন্নতি চান। বক্তারা বলেন, "যতদিন বাংলাদেশে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না ততদিন রানা প্লাজা ধস নিয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং তারা মনে করেন ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের কারখানার ইতিহাসে যেমন একটি শোকের দিন তেমনি দিনটি আন্দোলন সংগ্রামেরও অন্যতম অনুপ্রেরণার দিন হয়ে উঠেছে। " তাঁরা ২৪ এপ্রিলকে 'শ্রমিক নিরাপত্তা ও শোক দিবস' হিসেবে পালন করার আহ্বান জানান এবং ওই দিন সব কারখানায় ছুটি ঘোষণার দাবি জানান।

বক্তারা আরো বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনা ৩৫ মাস পার হয়ে গেলেও শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শক্ত নীতিমালা হয়নি। রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় এই খাতে নেই কারখানায় চাকরির কোনো নিরাপত্তা, নেই ট্রেড ইউনিয়ন, নেই বাঁচার মতো মজুরির নিশ্চয়তা, এমনকি নেই জীবনেরও কোনো নিরাপত্তা। তাঁরা বলেন, ২০১৩ সালে যে 'জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি নীতিমালা-২০১৩' প্রণয়ন করা হয়েছে তাতে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ বাস্তবায়নের কার্যকর পদ্ধতি নেই।

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে সাত হাজারের বেশি পোশাক কারখানার বড় অংশের কোনো নিবন্ধন নেই। এই ছোট কারখানাগুলো বড় বা নামি-দামি  কারখানার জন্য সাব কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করে থাকে। কারখানাগুলোর নিরাপত্তার বিষয় নজরদারির আওতায় নেই। বক্তারা  শ্রমবান্ধব আইন ও বিধিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানান। রানা প্লাজা ধসের তিন বছর হয়ে আসলেও ক্ষতিগ্রস্তরা কেন বিচার পাচ্ছে না বক্তারা তার জবাব চেয়েছেন সরকারের কাছে। তাঁরা বলেন, ভবন মালিক সোহেল রানা ও অভিযুক্ত সরকারি কর্মকমর্তাসহ সব দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে এই খাতে ভয়াবহ অরাজকতা সৃষ্টি হবে; যা বিচারহীনতা আর শ্রমিকহত্যার পথকে বিস্তৃত করবে। বক্তারা আরো বলেন, গরীব অ্যান্ড গরীব, স্পেকট্রাম, তাজরিন ইত্যাদি কারখানায় অভিযুক্তদের এখনো শাস্তি না পাওয়ার কারণেই মালিকেরা অপরাধী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, কাঠামোগত শ্রমিক হত্যা করতে পেরেছে, চলছে।

 


মন্তব্য